কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সৌদি আরবের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ বা পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে দেশটির অন্যতম প্রধান এই লাইনে তেল সরবরাহ আবারও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, রোববার রিয়াদের পূর্বে খুরাইস অঞ্চলে অবস্থিত একটি পাম্পিং স্টেশনকে লক্ষ্য করে এই আকস্মিক হামলা চালানো হয়। এর আগে ওই নির্দিষ্ট স্টেশনটিতে কখনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। নতুন এই হামলায় স্টেশনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ সম্পূর্ণ থমকে গেছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করার ঠিক এক দিন পরই এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রকাশ্যে এল। হুথিদের দাবি করা লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে খুরাইসের এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোটিও ছিল। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর থেকে এই অঞ্চলে উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছেছে। যুদ্ধের এই বিস্তৃতির জের ধরেই সৌদির এই কৌশলগত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি সাম্প্রতিক সময়ে বারবার প্রতিপক্ষের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত মাসেও ইরাকভিত্তিক ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক হামলার মুখে বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব তাদের এই প্রধান পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল। জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক ও পণ্য পরিবহন ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ‘কেপলার’-এর তথ্যমতে, গত ১১ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই লাইনে তেল প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান তেলক্ষেত্রগুলো থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭০০ মাইল) দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি দেশটির অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন। বিশেষ করে চলমান যুদ্ধে ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রাখায় বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানির জন্য রিয়াদের কাছে এই ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটিই এখন সবচেয়ে জরুরি ও একমাত্র ভরসা।










