ওমানের সোহার হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ স্ত্রীকে ফেলে দেশে পালিয়ে এসেছেন এক প্রবাসী। স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন কুড়িগ্রামের গৃহবধূ সুমি আক্তার। অবশেষে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে মাস্কাটের বাংলাদেশ দূতাবাস। তবে তাঁকে ফেরানোর পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ওমানি রিয়াল বা প্রায় ৩৭ লাখ টাকার বকেয়া হাসপাতাল বিল ও আইনি জটিলতা।
পরিবারের অভিযোগ, ওমানে নেওয়ার পর অভিযুক্ত বাবু রায়হান নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান। এতে সুমির গর্ভের সন্তান মারা যায় এবং তিনি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। সুমি অসুস্থ হয়ে সোহার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই নিরুদ্দেশ হয়ে যান বাবু। চিকিৎসার জন্য প্রবাসীদের দেওয়া সহায়তাও বাবু আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে অর্থাভাবে অসুস্থ মেয়েকে দেশে ফেরাতে না পেরে চরম হতাশায় দিন কাটছে দরিদ্র পরিবারটির।
জানা গেছে, বিপুল পরিমাণ এই বিল মওকুফের জন্য ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চেষ্টা চালাচ্ছে দূতাবাস। এছাড়া রোগীর পাসপোর্ট না থাকা এবং রেসিডেন্ট কার্ড প্রস্তুত না হওয়ায় স্থানীয় থানায় পুলিশ রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। চিকিৎসকদের পরামর্শে সুমিকে দেশে ফেরাতে স্ট্রেচার ও নার্স প্রয়োজন। বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুরোধে এক প্রবাসী ব্যবসায়ী স্ট্রেচার ভাড়াবাবদ দুই হাজার রিয়াল দিতে সম্মত হলেও, নার্সের পারিশ্রমিক ও জরিমানা বাবদ আরও প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার প্রয়োজন। হাসপাতাল বিলের নিষ্পত্তি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুমিকে দেশে ফেরাতে আনুমানিক এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।










