ওমান উপকূলের কাছে ইঞ্জিন বিকল হয়ে মাঝসাগরে আটকা পড়া একটি ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ১৪ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ওই জাহাজটির নাম মেকানাইজড সেইলিং ভেসেল বা এমএসভি ‘বিরাট-১’। ওমানের নৌ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং ওই এলাকায় চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সফল উদ্ধার অভিযানটি সম্পন্ন হয়। মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই নাবিকদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল ও দূতাবাসের দেওয়া তথ্যমতে, সাগরের মাঝখানে হঠাৎ করে জাহাজটির ইঞ্জিন পুরোপুরি বিকল হয়ে গেলে নাবিকরা চরম বিপাকে পড়েন। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এবং জাহাজটি ডুবে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হলে তাঁরা সেটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হন। এ সময় আকাশপথে টহলরত একটি সামুদ্রিক বিমান থেকে জরুরি ভিত্তিতে একটি লাইফ র্যাফট (জীবন রক্ষাকারী নৌযান) সাগরে ফেলা হয়। ওই র্যাফটে আশ্রয় নিয়েই নাবিকরা ভাসতে থাকেন, যেখান থেকে পরে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

আরও
ভারতীয় দূতাবাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে নিকটবর্তী জাহাজগুলোকে উদ্ধারকাজে যুক্ত করা হয়। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া সব ক্রু সদস্য সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মাসকাট ডেইলি জানিয়েছে, সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক নৌযানগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে ওমানের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই উদ্ধার তৎপরতাকে শুরু থেকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালনা করেছে।
উল্লেখ্য, এই দুর্ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যার মাত্র কয়েক দিন আগেই ওমান উপসাগরে একটি ট্যাংকারে মার্কিন হামলার শিকার হয়েছিল ভারতীয় নাবিকরা। ওই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, এমএসভি বিরাট-১ জাহাজের এই দুর্ঘটনার সঙ্গে পূর্বের ওই হামলার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এটি নিতান্তই একটি কারিগরি ত্রুটিজনিত দুর্ঘটনা বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।










