বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ একটি ‘বেসরকারি গণমাধ্যম সংস্থার’ আয়োজন। সেখানে কোনো ধরনের মতামত ব্যক্ত করা হলে তার দায় ভারতের নয় এবং ভারত সরকার তা সমর্থনও করে না।
গত বছর ঢাকা ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। সেখানে নয়াদিল্লির ‘ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তাঁর ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে ভাষণ দেওয়ার খবর প্রকাশ্যে এলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়। ঢাকার মতে, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সাম্প্রতিক ইতিবাচক গতিধারায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওই আয়োজনে সরকারের কোনো ভূমিকা না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দেওয়ার জন্যও বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে অতিথি আমন্ত্রণের প্রচলিত নিয়ম মেনেই বিশ্বের অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের প্রধানদের মতো তাঁকেও এই আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আরও
ভারতের এই আমন্ত্রণের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণপত্রটি গ্রহণ করেছেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সেটি এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে আমন্ত্রণ জানানো অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ। কারণ, ২০২৭ সালে বিমসটেক তার প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে এবং ওই বছর ঢাকাতেই জোটটির শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে।










