ওমানে মেধা আর একনিষ্ঠ পরিশ্রমের অসামান্য স্বীকৃতি পেলেন ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত ভূতত্ত্ববিদ প্রফেসর ড. সালাহ আবদুল-ওয়াসে আবদুল্লাহ আল-খারবাশ। বিজ্ঞান, গবেষণা ও শিক্ষায় দীর্ঘ কয়েক দশকের অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এবং তাঁর ছেলেদের ওমানের নাগরিকত্ব প্রদান করেছেন সুলতান হাইথাম বিন তারিক। রোববার জারি করা এক রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে যে ২২৬ জন বিদেশি নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম এই বর্ষীয়ান বিজ্ঞানী। আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসীদের কাছে তাঁর এই অর্জন এক বিশাল অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
আরব অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভূতত্ত্ব ও খনিজ অনুসন্ধানে শীর্ষস্থানীয় এই বিশেষজ্ঞ ২০০১ সালে ওমানের স্বনামধন্য সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। সেখানে আর্থ সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ও পরবর্তীতে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওমানের ভূতাত্ত্বিক গবেষণা কর্মসূচির আধুনিকায়ন এবং অসংখ্য তরুণ ও দক্ষ বিজ্ঞানী তৈরিতে তাঁর অবদান দেশটিতে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। এর আগে নিজ দেশ ইয়েমেনের সানা বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
ড. আল-খারবাশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি খ্যাতি পান ২০২১ সালে। ইয়েমেনের রহস্যময় ‘বারহুত কূপ’ যা যুগের পর যুগ ধরে লোকমুখে ‘নরকের কূপ’ নামে পরিচিত, সেই গহ্বরের গভীরে অনুসন্ধানে তিনি বৈজ্ঞানিক তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করেন। রহস্যে ঘেরা ওই বিশাল গর্ত নিয়ে প্রচলিত নানা রূপকথার যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলেন। আন্তর্জাতিক মেধার সঙ্গে স্থানীয় গবেষণার অনন্য মেলবন্ধন ঘটানো এই বিজ্ঞানী প্রমাণ করেছেন, নিজ কর্মে শ্রেষ্ঠত্ব ও একাগ্রতা থাকলে প্রবাসেও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান ও স্বীকৃতি আদায় করে নেওয়া সম্ভব।









