সর্বশেষ

ওমান প্রবাসী সবুজের টার্গেট বাংলাদেশিদের লাশ

Bodies of Omani expatriates targeted by SabujProbashircityWebPopupUpdate

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ওমানে কাজ করেন প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী। সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো বৈধ কর্মী মারা গেলে দেশটির নিয়ম অনুযায়ী তার ওয়ারিশদের প্রায় ১৫ হাজার ওমানি রিয়াল—বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা—ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। কিন্তু এই অর্থকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র, যারা মৃত প্রবাসীদের পরিবারের কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, মৃত ব্যক্তির পাসপোর্ট, মেডিকেল সনদ ওয়ারিশদের নথি এবং ভুয়া আমমোক্তারনামা সংগ্রহ করে চক্রটি ভুক্তভোগী পরিবারের অগোচরে ক্ষতিপূরণের টাকা তুলে নিচ্ছে। চক্রটির মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ভোলার লালমোহন উপজেলার মোহাম্মদ সবুজকে। ওমানে প্রবাসী এই ব্যক্তি তার শ্বশুর মাকসুদুর রহমানসহ আরও কয়েকজনের সহযোগিতায় জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সংঘবদ্ধ এই প্রতারণায় সবুজ নিজ এলাকায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে কোটি টাকার ‘রাজপ্রাসাদ’ নির্মাণ করেছে বলেও জানান স্থানীয়রা।

একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগে জানা যায়, সবুজ ও তার সহযোগীরা ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কয়েকজন বাংলাদেশির ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরিফ নামে এক যুবক মামলা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে ওমানে মারা যাওয়া তার বাবা নূরুল আবছারের প্রাপ্য ৪৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা সবুজ জাল নথি ব্যবহার করে তুলে নিয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রাম ও হবিগঞ্জ আদালতে আরও দুটি মামলা হয়েছে, যেখানে নিহতদের পরিবার জানিয়েছে ৩০ লাখ থেকে ৪৮ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ সবুজ ও ওমানি আইনজীবীদের সহায়তায় প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সবুজের স্ত্রী ও শ্বশুর দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা এবং তারা আদালতে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করবেন। ওমান থেকে সবুজও জানান, তিনি প্রতারণার সঙ্গে জড়িত নন এবং মামলাগুলো আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের অর্থ ফেরত পাওয়া এবং চক্রটির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

লালমোহন থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, সবুজ একটি বড় প্রতারণা চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে তদন্তে জানা গেছে। বিদেশে মৃত বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং থানায় দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

আরও দেখুনঃ

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate
ProbashircityWebBannerUpdate