মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ ও মানবিক সংকটে পড়া রেশমা বেগম নামের এক বাংলাদেশি নারী কর্মী দেশে ফিরেছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস, কুয়েতের সার্বিক সহযোগিতায় গতকাল রোববার (১৪ জুন) তিনি নিরাপদে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। বিদেশে গিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় পড়া এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার দুঃসময়ে দূতাবাস পাশে দাঁড়ানোয় তাঁর পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে।
কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানায়, কাজের উদ্দেশ্যে কুয়েতে যাওয়ার পর রেশমা বেগম হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়েন। খবর পেয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুত তাঁর চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে। আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে দূতাবাসের সরাসরি তত্ত্বাবধানে গতকাল জাজিরা এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তাঁকে ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। এ সময় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দূতাবাসের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান।
জীবিকার তাগিদে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক নারী কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। পরিবারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় যাওয়া এসব কর্মীর অনেকেই মাঝেমধ্যে প্রতিকূল পরিবেশ, শারীরিক অসুস্থতা বা নানা কারণে এমন মানবিক সংকটে পড়েন। বিশেষ করে ভাষাগত সমস্যা ও স্থানীয় আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে সংকটে পড়া এই নারী কর্মীদের পক্ষে একা দেশে ফেরা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোই তাঁদের শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে।
আরও
সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েতে অসুস্থ হয়ে পড়া ও মানবিক সংকটে থাকা বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে দূতাবাস। রেশমা বেগমের দেশে ফেরার মাত্র কয়েক দিন আগে গত ৪ জুন মো. ইমন নামের আরেক অসুস্থ বাংলাদেশি কর্মীকেও প্রয়োজনীয় আইনি ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল কুয়েতের বাংলাদেশ মিশন।
প্রবাসে কর্মরত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের যেকোনো বিপদে দ্রুত সাড়া দিতে এবং প্রবাসী কল্যাণ নিশ্চিতে দূতাবাসগুলো কাজ করে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অসুস্থ ও অসহায় কর্মীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে নিজ দেশে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে দূতাবাসের এই ধারাবাহিক মানবিক কার্যক্রম কুয়েতে বসবাসরত সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।









