বিশ্বের অধিকাংশ শহরে রাতের বেলায় একজন নারীর একাকী পথচলা মানেই চরম উৎকণ্ঠা আর বাড়তি সতর্কতা। হাতে শক্ত করে গাড়ির চাবি ধরে রাখা, সামনের রাস্তা এড়িয়ে চলা কিংবা আড্ডা শেষে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছেই প্রিয়জনকে বার্তা দেওয়ার মতো মানসিক চাপ নিয়েই নারীদের দৈনন্দিন জীবন পার করতে হয়। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহর এই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। ২০২১ সালে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ‘উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি ইনডেক্স’ অনুযায়ী, সামাজিক নিরাপত্তার দিক থেকে আরব আমিরাত বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে, যেখানে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ নারীই রাতে একাকী পথ চলতে নিজেদের পুরোপুরি নিরাপদ বোধ করেন।
দুবাইয়ের এই অভাবনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পেছনে রয়েছে কঠোর আইন ও প্রশাসনের নির্মোহ প্রয়োগ। মৌখিক বা শারীরিক হয়রানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং অনুমতি ছাড়া কারও ছবি তোলার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে নারীরা সেখানে নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতে পারেন। এ ছাড়া নারী চালকদের দ্বারা পরিচালিত বিশেষ ‘পিঙ্ক ট্যাক্সি’, মেট্রোতে নারী ও শিশুদের জন্য সংরক্ষিত আলাদা কামরা এবং ২৪ ঘণ্টা পুলিশের তাৎক্ষণিক সহায়তা দুবাইকে নারীদের জন্য একটি আদর্শ শহরে পরিণত করেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, অন্যান্য দেশে রাস্তাঘাটে তীব্র সতর্কতার কারণে নারীরা যে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক অবসাদ বা উদ্বেগে ভোগেন, দুবাইয়ের নিরাপদ পরিবেশ তাঁদের সেই মানসিক চাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিয়েছে।

আরও
নিরাপদ এই আর্থসামাজিক পরিবেশের কারণে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা নারীরা দুবাইয়ে খুঁজে পেয়েছেন নতুন এক স্বাধীনতা। প্রায় ৫০টি দেশ ভ্রমণ করা অস্ট্রেলীয় দৌড়বিদ জেনাহ-লুইস কিংবা নয়াদিল্লি থেকে আসা একতা আলরেজার মতো অনেক নারীই জানিয়েছেন, অন্যান্য শহরে তাঁরা যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন, দুবাইয়ে এসে তাঁরা সেই শঙ্কা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়েছেন। এখানকার নিরাপদ সমাজব্যবস্থায় তাঁরা তাঁদের কন্যাসন্তানদের স্বাধীন ও নির্ভার হয়ে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন। সর্বস্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় দুবাইয়ের নারীদের এখন আর আত্মরক্ষার পেছনে শক্তি বা সময় ক্ষয় করতে হয় না; বরং তাঁরা সমান সুযোগ ও সম্মান নিয়ে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ ও আত্মবিকাশের পথে বহুদূর এগিয়ে যাচ্ছেন।










