ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরব বা কাতারের আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক কিংবা প্রকাশ্য প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নেই। তবে দেশ দুটি ইসরায়েলের কাছ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের জন্য তৈরি অত্যাধুনিক কম্পিউটারাইজড ব্যাটল হেলমেটসহ বিপুল সমরাস্ত্র কিনেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে হারেৎজ জানিয়েছে, কাতারের রাজপরিবারের ব্যবহৃত ১১টি উড়োজাহাজের মধ্যে তিনটিতেই ইসরায়েলি কোম্পানি এলবিটের তৈরি ‘সি-মিউজিক’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের বাসেলে উড়োজাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময় এই ব্যবস্থাগুলো স্থাপন করা হয়। এমনকি গত বছর কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি যখন তেহরান সফর করেছিলেন, তখন তাঁর উড়োজাহাজটিও এই ‘সি-মিউজিক’ ব্যবস্থায় সজ্জিত ছিল। অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি মূলত কাঁধ থেকে নিক্ষেপণযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র (ম্যানপ্যাড) শনাক্ত করতে পারে এবং পরে অত্যন্ত শক্তিশালী লেজার রশ্মি ব্যবহার করে সেটিকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করে দেয়। সহজে পরিচালনাযোগ্য এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর উড়োজাহাজ ‘উইংস অব জায়ন’ এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজসহ আরও বেশ কিছু দেশের ভিআইপিদের নিরাপত্তায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
হারেৎজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালে কাতারের কাছে মার্কিন এফ-১৫ কিউএ আবাবিল যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তিপত্র থেকে জানা গেছে, ইসরায়েলি কোম্পানিগুলো এসব যুদ্ধবিমানের উন্নত যন্ত্রাংশ ও ব্যবস্থা সরবরাহের জন্য ১৫ থেকে ২৫ কোটি ডলারের উপচুক্তি লাভ করে। এর মধ্যে প্রতিটি ২ লাখ ডলার মূল্যের ১৬০টি জেএইচএমসিএস হেলমেট এবং এএন/এভিএস-৯ নাইট-ভিশন চশমা অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে, ২০১০ সালের মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের কাছে এফ-১৫ এসএ উড়োজাহাজ বিক্রির চুক্তির অংশ হিসেবে রিয়াদকে ৪৬২টি জেএইচএমসিএস হেলমেট এবং সমপরিমাণ নাইট-ভিশন চশমা দেওয়া হয়েছিল। এই সরঞ্জামগুলো কাতারের কাছে বিক্রি করা মডেলেরই অনুরূপ। ইন্টারনেট ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সৌদি আরবের এসব হেলমেট ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে।
আরও
অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই হেলমেটগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে পাইলটদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকে। হেলমেটের সামনের কাচেই ফ্লাইটের প্রয়োজনীয় সব তথ্য প্রদর্শিত হয়। এর ফলে পাইলট চোখের ইশারায় সহজেই লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হন।









