ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এক শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) হরমোজগান প্রদেশের সিরিক শহরের একটি আবাসিক বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, বিয়ের আনন্দোৎসব চলাকালে হঠাৎ বিস্ফোরকের টুকরো ছিটকে পড়লে এই ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় রেড ক্রিসেন্ট হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া ইরানের একটি সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যায়, যেখানে আতঙ্কিত মানুষের আর্তনাদও শোনা গেছে। এর আগে হরমোজগান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর আহমদ নাফিসি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছিলেন, হামলায় প্রাথমিকভাবে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে উদ্ধারকাজ চলাকালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়ায়।
কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত সিরিক কাউন্টিতে চালানো এ হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলার চেষ্টার জবাবেই তারা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই অভিযান চালাচ্ছে। মার্কিন এই অভিযানের মধ্যে হরমুজ প্রণালির আশপাশের একাধিক শহর এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরমান প্রদেশের একটি বিমানবন্দরেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
আরও
এদিকে নিজ ভূখণ্ডে মার্কিন এই হামলার কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। হামলার পরপরই উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনসহ আশপাশের এলাকায় থাকা অন্তত ৪টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। এর ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।











