শিক্ষাব্যবস্থায় নানা সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সের উচ্চবিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ ক্রমেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ ও শিক্ষকসংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে গত মঙ্গলবার দেশজুড়ে অন্তত ৪৪০ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যাদের বেশির ভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক। রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ ইতিমধ্যে ইল-দ্য-ফ্রঁসসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ অবরোধ করে তাদের কর্মসূচি পালন করছে।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিটি শ্রেণিতে গড়ে ৩৪ জন শিক্ষার্থী থাকায় পড়াশোনার কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষকদের ওপরও কাজের অস্বাভাবিক চাপ পড়ছে। শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভ অনেক স্থানেই সহিংস রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে ময়লার পাত্রে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি বাসস্টপ ভাঙচুর করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। মঙ্গলবারের এসব সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন শিক্ষক, বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪৮ সদস্য আহত হয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভের কারণে দেশজুড়ে অন্তত ৪০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
আরও
শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এমন পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসিয়েন। সরকারের বিরুদ্ধে ‘দমন-পীড়নের’ অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনটির সভাপতি রিয়াদ রানি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ পুলিশের পদক্ষেপকে ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে এবং প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের অধিকারকে স্বীকৃতি দিলেও শিক্ষাঙ্গনে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও ভাঙচুরকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের এই টানা বিক্ষোভের পাশাপাশি মঙ্গলবার ফ্রান্সজুড়ে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘটও পালিত হয়েছে। বেতনবৈষম্য ও নাজুক কর্মপরিবেশের প্রতিবাদে শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের এই ধর্মঘটে অন্তত দুই লাখ মানুষ অংশ নেন। তবে অধিকাংশ এলাকায় শ্রমিক ও কর্মচারীদের এই কর্মসূচি বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি প্রশাসন।









