যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সমরাস্ত্রের মজুত পুনরায় গড়ে তুলতে ইরানকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও বিস্ফোরক দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া। পশ্চিমা গোয়েন্দা নথির বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রুশ সামুদ্রিক পরিবহন কোম্পানি ‘এমজি-ফ্লোট’-এর দুই ডজনের বেশি জাহাজ অত্যন্ত সুকৌশলে ক্যাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে এসব সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দিচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য তেহরান একসময় মস্কোকে বিপুলসংখ্যক ‘শাহেদ’ ড্রোন সরবরাহ করেছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা, সেই সহায়তার প্রতিদান হিসেবেই রাশিয়া এখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এই পাল্টা সহায়তা দিচ্ছে।

অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহের জন্য ক্যাস্পিয়ান সাগরের এই নৌপথটিকে অত্যন্ত নিরাপদ বলে বিবেচনা করছে মস্কো ও তেহরান। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, চারদিকে স্থলভাগবেষ্টিত এই সাগরে পশ্চিমা কোনো দেশের নৌবাহিনীর আইনি প্রবেশাধিকার নেই। ফলে যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্ররা চাইলেও রুশ ও ইরানি জাহাজের এই সামরিক চালান মাঝপথে আটকাতে বা নজরদারি করতে পারে না। পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা এই দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক সখ্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক এক বিশ্লেষকের মতে, বাইরের দেশ থেকে ড্রোন ও ছোট অস্ত্রের এই চালান প্রমাণ করে যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
আরও
পশ্চিমা গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা আরও জানাচ্ছেন, রাশিয়া শুধু টিএনটি বিস্ফোরক ও সমরাস্ত্রই দিচ্ছে না, আধুনিক ড্রোনের প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইট চিত্র দিয়েও ইরানকে কৌশলগত সহায়তা করছে। যদিও ক্রেমলিন বরাবরই ইরানকে অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার এই সামরিক সহায়তার বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইরানকে মার্কিন ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহের অভিযোগ তুললেও, ট্রাম্পের দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে মস্কো তেহরানের কাছে নতুন করে কোনো অস্ত্র বিক্রি করছে না।












