ছয় মাস ধরে তিন ইরানি পাইলটকে আটকে রাখার যে অভিযোগ তেহরান করেছে, তা ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে কাতার। দোহার দাবি, এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি এবং পাইলটদের আটকের অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর দিকে সামরিক অভিযান চালানোর সময় কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে দুটি ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। তেহরানের দাবি, ওই সময় বিমান থেকে বেরিয়ে আসার পর কাতারের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ওই তিন পাইলটকে আটক করা হয় এবং গত ছয় মাস ধরে তাঁরা সেখানেই বন্দী আছেন। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেডক্রসের (আইসিআরসি) প্রধান মিরজানা স্পোলিয়ারিচের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেন, পাইলট জাভাদ সালেহি, আবদুল মাজিদ দাশতিয়ান ও ইমরান বেহরোশিয়ানকে বন্দী রাখা হয়েছে। তাঁদের পরিবারের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না, যা আন্তর্জাতিক আইন ও বিধির পরিপন্থী।
চিঠিতে আরও জানানো হয়, একই অভিযানে নিহত চতুর্থ পাইলট মাজিদ কাজেমির মরদেহ ইতিমধ্যে ইরানের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২ মার্চ যুদ্ধের তৃতীয় দিনে ওই অভিযানে নিহত হন তিনি। এখন বাকি তিন পাইলটকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
আরও
তবে ইরানের এসব দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করে কাতার জানিয়েছে, তেহরানের এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে তারা বিস্মিত। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ মোহাম্মদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর নিয়ম অনুযায়ী পাইলটদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তাঁদের দিক থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর আন্তর্জাতিক আইন মেনে কাতারের ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আল-আনসারি আরও জানান, কাতারের তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং উদ্ধার হওয়া এক পাইলটের মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে সমন্বয়ও করেছে। পুরো তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য কাতারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তেহরান এখনো তাতে সাড়া দেয়নি বলে উল্লেখ করেন এই মুখপাত্র।
সূত্র: বিবিসি











