Long Popup (2)
সর্বশেষ

অর্থ, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা শঙ্কায় সৌদি আরব!

Saudi drunProbashircityWebPopupUpdate

প্রচুর অর্থ, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন থাকার পরও গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সৌদি আরব। চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নিজেদের সুরক্ষায় এবার একটি ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে দেশটি। গত সপ্তাহে পবিত্র মক্কা নগরীতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সোমবার (১০ আগস্ট) এই তথ্য জানা গেছে। অনেকেই নতুন এই সামরিক জোটকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে অভিহিত করছেন। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল শর্ত হলো—জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা বলে গণ্য হবে। ন্যাটো সদস্যভুক্ত দেশ হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই তুরস্ক এই চুক্তিতে যুক্ত হয়েছে।

Portal Image DN 2026 08 07sfT182933.622

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সৌদি আরব। সংবাদমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরবের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অন্তত ৮৬ শতাংশ কমে গেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে দেশটির তেল রপ্তানি। পাশাপাশি, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও ইরাকি মিলিশিয়াদের অব্যাহত হামলায় সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই তিন দেশ মিলে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে। এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরব সামরিক অর্থায়ন করবে, তুরস্ক তাদের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করবে এবং পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান প্রয়োজনীয় সেনা সহায়তা দেবে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরবর্তীতে কাতারে ইসরায়েলি আক্রমণের প্রেক্ষাপটে সেই চুক্তিটি সম্প্রসারিত করে তুরস্ককে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

Erdogan shehbaz salman

একসময় মুসলিম ব্রাদারহুড ইস্যু, লিবিয়া ও সিরিয়ায় প্রক্সি যুদ্ধ এবং সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের জেরে তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে তীব্র বৈরিতা ছিল। তবে মক্কায় স্বাক্ষরিত এই নতুন চুক্তিটি সৌদি রাজপরিবারের চরম দুর্বলতা ঢাকতে এবং আঞ্চলিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। চলমান সংঘাতের কারণে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘ভিশন ২০৩০’ এবং ‘নিওম’ শহরের মতো মেগা প্রকল্পগুলো থমকে গেছে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মূলত ইরান, হুতি গোষ্ঠী ও ইসরায়েলকে একটি কড়া বার্তা দিতে এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই রিয়াদ এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির বাস্তবায়ন করেছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate