তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নির্দিষ্ট কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি জানান, এই অঞ্চলে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা প্রত্যাশী যেকোনো বন্ধুরাষ্ট্র চাইলে ঐতিহাসিক এই চুক্তিতে যুক্ত হতে পারবে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এনসোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। ওই পোস্টে তিনি বলেন, যৌথ প্রতিরোধের নীতির ভিত্তিতে করা এই চুক্তি তিন দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, যৌথ প্রতিরক্ষা শিল্প প্রকল্প এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়টিও এই চুক্তিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে যেকোনো সংঘাত ও সংকট সমাধানের পক্ষে তুরস্ক তার নীতিগত অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলেও জোর দেন এরদোয়ান। এর আগে শুক্রবার সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে মক্কা সফর করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। সেখানে সৌদি যুবরাজের পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই দেশ তিনটি এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে।
আরও
এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে জোটভুক্ত সব দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মূলত এর মাধ্যমে সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী যৌথ প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তুর্কি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার চূড়ান্ত ফল হিসেবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় তিন দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, সামরিক সক্ষমতার সমন্বয় এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও বহুগুণ বাড়ানো হবে।









