মুসলিম দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা জোট গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়েদ মজিদ ইবনে-রেজা। গতকাল রোববার তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলারের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই প্রস্তাব দেন। এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অঞ্চলে বাইরের কোনো শক্তির উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্য ও এর আশপাশে কেবল অস্থিতিশীলতাই উসকে দেয়। ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতগুলোর প্রেক্ষাপট টেনে জেনারেল ইবনে-রেজা বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা অবশ্যই এই অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তাকে একটি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো বহিঃআঞ্চলিক শক্তির ওপর নির্ভর করে কখনোই স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এ জন্য তিনি ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিসরসহ অন্যান্য মুসলিম দেশকে নিয়ে একটি যৌথ নিরাপত্তা জোট গঠনের জোরালো প্রস্তাব দেন। সেই সঙ্গে তুরস্কসহ অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে যৌথ আলোচনা চালিয়ে যেতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও
ফোনালাপে ইরানের এই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, মূলত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুরোধেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক সই করেছে তেহরান। তবে প্রতিশ্রুতি রক্ষার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের অতীত ইতিহাস ভালো না হওয়ায় ইরান তাদের ওপর অন্ধভাবে আস্থা রাখছে না। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, যুদ্ধবিরতির যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন হলে তার যথাযথ জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থনই মূলত ইসরায়েলকে বেপরোয়া করে তুলেছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন ফ্রন্ট খোলার মার্কিন হুমকির বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, সিরিয়া ও লেবাননে তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরির ইসরায়েলি পরিকল্পনা এই অঞ্চলে বৃহত্তর সংকটের পূর্বাভাস দিচ্ছে।
অন্যদিকে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার ইরানের প্রয়াত নেতা, সামরিক কমান্ডার, বেসামরিক নাগরিক এবং মিনাবে নিহত স্কুলছাত্রদের নিহতের ঘটনায় ফোনালাপে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি চলমান যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্মারকের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার পক্ষে নিজ দেশের সমর্থন ব্যক্ত করেন। আঙ্কারা সর্বদা তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করে উল্লেখ করে তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সন্ত্রাসবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতা বাড়াতে তুরস্ক সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।










