যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান লড়াই থেকে পিছিয়ে আসতে চেয়েছিল—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে দেশটি জানিয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। আজ রোববার (২ আগস্ট) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে দেশটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সামরিক সূত্র দাবি করেছে, মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা এবং তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই ট্রাম্প এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়িয়েছেন। উল্টো হুশিয়ারি দিয়ে ওই সূত্রগুলো জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত যদি নতুন করে আবারও শুরু হয়, তবে তা হবে একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ, যেখানে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ময়দানে প্রকৃত শক্তিধর কে—তা চিরতরে স্পষ্ট হয়ে যাবে।
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর দাবি ছিল, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় টানা পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতার মৌলিক রূপরেখা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকিরও স্থায়ী অবসান ঘটবে। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার ঠিক আগেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাঁর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং ওয়াশিংটন সামরিক অভিযান আরও বাড়ালে তা পুরো অঞ্চলের জন্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেই উদ্বেগের কথা ট্রাম্পকে জানান।









