Long Popup (2)
সর্বশেষ

বাবা জুতা সেলাই করছেন, পাশে বই পড়ছে ছেলে-মেয়ে

X 20260802ProbashircityWebPopupUpdate

মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে ফুটপাতের এক কোণে খোলা আকাশের নিচে বসে জুতা সেলাই করেন সাগর রবিদাস। চারপাশে মানুষের নিত্য ব্যস্ততা আর কোলাহল। তারই মাঝে বাবার পাশে বসে বই খুলে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে ছোট্ট ছেলে প্রিয়জিৎ রবিদাস। দারিদ্র্যের কশাঘাত থাকলেও তার চোখেমুখে শুধুই বড় হয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দাশড়া এলাকার বাসিন্দা প্রিয়জিৎ স্থানীয় ৮৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা সাগর রবিদাস পেশায় একজন চর্মকার। দীর্ঘদিন ধরে আদালত চত্বরে জুতা সেলাই করে তিনি সংসার চালাচ্ছেন। নিজে কখনো স্কুলের গণ্ডি পেরোতে না পারলেও সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলার স্বপ্নই তাঁর জীবনের প্রধান প্রেরণা। অভাবের কারণে ছেলেকে প্রাইভেট পড়ানোর সামর্থ্য নেই। তাই স্কুল ছুটি হলেই বাবার কর্মস্থলে চলে যায় প্রিয়জিৎ, সেখানে বসেই পড়াশোনা চালিয়ে যায় সে। সাগর রবিদাসও কাজের ফাঁকে ফাঁকে সন্তানদের পড়ালেখায় সাধ্যমতো সহায়তা করেন। শুধু প্রিয়জিৎ নয়, তার ছোট বোন শাহীন স্কুলের প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী রাখি রানী রবিদাসও প্রায়ই বাবার পাশে বসে খোলা আকাশের নিচে পড়াশোনা করে।

চার সদস্যের পরিবারে সামান্য আয়ে সংসার চালানো যেখানে দায়, সেখানে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগানো সাগরের জন্য পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এই জীবনসংগ্রামকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তবুও সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সন্তানদের মানুষ করার অদম্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সাগর রবিদাস বলেন, ‘আমি অশিক্ষিত, আমার বউ অশিক্ষিত। আমি চাই ওরা যেন অশিক্ষিত না থাকে। খোলা আকাশের নিচে জুতার কাজ করি, ছেলে স্কুল শেষে এখানেই আসে। দোকানে বসেই তাকে লেখাপড়া করাই।’ প্রিয়জিতের মা শিল্পী রবিদাসেরও একই চাওয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা স্বামী-স্ত্রী লেখাপড়া করি নাই, তবে পোলাপাইনরে পড়ালেখা করাইয়া মানুষের মতো মানুষ করবার চাই।’ নির্ভীক কণ্ঠে প্রিয়জিতের সোজা উত্তর, সে বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চায়।

দরিদ্র এই বাবার এমন জীবনসংগ্রাম ও সন্তানের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ অনুপ্রাণিত করেছে স্থানীয় অনেককেই। মানিকগঞ্জের ৪ নম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) এ এইচ এম মাহফুজ বলেন, সাগর রবিদাস নিজে শিক্ষিত না হলেও সন্তানদের শিক্ষিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। সমাজের সচ্ছল মানুষ ও আইনজীবীরা এগিয়ে এলে এই শিশুর স্বপ্ন পূরণ সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জেলা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক শাহীনুর রহমানও তাঁদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, যেহেতু তাঁদের আর্থিক অবস্থা খারাপ, তাই পৌরসভার পক্ষ থেকে এই পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate