মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের ঘনঘটা এবং চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে আপাতত সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্রুত একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর শর্তে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উদ্বেগ প্রকাশ এবং ইরানের পাল্টা হামলার কঠোর হুঁশিয়ারির কারণেই মূলত ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে নিজের সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন সৌদি যুবরাজ। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোনো সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, সৌদি আরবের প্রধান আশঙ্কা ছিল—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে তেহরান পাল্টা আঘাত হিসেবে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। ফোনালাপে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পের কাছে স্পষ্ট ব্যাখাও চেয়েছিলেন যুবরাজ। হোয়াইট হাউস দুই নেতার ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে কঠোর প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর বিষয়ে আগেই সতর্ক করে রেখেছে ইরান। এর মধ্যেই আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে কুয়েত দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় ইরানি ড্রোন অনুপ্রবেশ করেছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির কাছে ওমান উপকূলে দুটি জাহাজে রহস্যজনক হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে।
আরও
সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দ্য গার্ডিয়ান বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছিলেন। কিন্তু সৌদি যুবরাজের ফোন এবং ইরানের পাল্টা হামলার জোরালো হুমকিই আপাতত তাঁকে বড় ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত রেখেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে পুরোপুরি সরে এসেছেন। চূড়ান্ত প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে তেহরানে যেকোনো সময় বড় ধরনের মার্কিন হামলার শঙ্কা এখনো রয়েই গেছে।









