জর্ডানের উত্তর সীমান্তঘেঁষা দক্ষিণ সিরিয়ায় অবস্থানরত মাদক ও অস্ত্র চোরাকারবারিদের গোপন আস্তানায় জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী। রোববার (৩ মে) ভোরে চালানো এই আকস্মিক হামলায় জর্ডানের অভ্যন্তরে অবৈধ মাদক ও অস্ত্র পাচারের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন স্থাপনা ও গুদামঘরকে মূল লক্ষ্যবস্তু করা হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেট্রার বরাত দিয়ে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই সামরিক অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিরিয়ার অভ্যন্তরে থাকা এসব চোরাচালান চক্রের স্থাপনাগুলো নিঁখুতভাবে শনাক্ত করা হয়। এরপর যুদ্ধবিমানের সাহায্যে নির্ভুল হামলার মাধ্যমে সেই সন্দেহভাজন স্থাপনা ও গুদামগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। মূলত সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিদের তৎপরতা ও চোরাচালানের অপচেষ্টা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটেই এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী।
অন্যদিকে, সিরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আল-ইখবারিয়া টিভি তাদের নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, জর্ডানের যুদ্ধবিমানগুলো মূলত সিরিয়ার সুয়াইদা প্রদেশের শাহবা গ্রামের একটি স্থাপনায় এই হামলা চালিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নির্দিষ্ট স্থানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও অবৈধ মাদক মজুত করে রাখা হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই শহরের সাবেক একটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা শাখার কাছাকাছি এলাকাকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং ঘটনার পরপরই ওই এলাকায় ড্রোন ও বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সের তৎপরতা লক্ষ করা গেছে।
আরও
সীমান্তবর্তী সিরীয় অঞ্চলে চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে জর্ডানের এমন কঠোর পদক্ষেপ এবারই প্রথম নয়। দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের কারণে সিরিয়ায় অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে গড়ে ওঠা মাদক ও অস্ত্র পাচার চক্রের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জর্ডানের সামরিক বাহিনী বেশ কয়েকবার এ ধরনের সফল বিমান হামলা চালিয়েছে। সিরিয়া থেকে জর্ডান হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে মাদকের চোরাচালান রোধে জর্ডান সরকার তাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও সীমান্ত সুরক্ষার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।










