ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্মান্তরিত হয়ে এক সৌদিপ্রবাসী যুবককে বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় এক কলেজছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম বাণী দারু ওরফে মারিয়া ইসলাম (১৯)। গত ৬ জুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকায় পরিবারের দাবি, তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে হতদরিদ্র হওয়ায় আইনি লড়াই চালানোর সামর্থ্য নেই বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভালুকা উপজেলার আওলাতলী গ্রামের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী কলেজছাত্রী বাণী গত বছরের ২০ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এরপর আদালতে এফিডেভিট করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মাধ্যমে নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন মারিয়া ইসলাম। পরে মুঠোফোনে একই গ্রামের সৌদিপ্রবাসী মোহসিনের (২২) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তবে মোহসিনের পরিবার শুরুতে এ বিয়ে মেনে না নেওয়ায় মারিয়া হাজির বাজার এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। পরে ছেলের অনুরোধে শাশুড়ি তাঁকে মেনে নিলেও নিজের বাড়িতে তুলে নেননি।
জানা গেছে, গত ৫ জুন মারিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর শাশুড়ি প্রথমে তাঁকে ভালুকা সরকারি হাসপাতালে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ভর্তি না করে তড়িঘড়ি তাঁকে চুরখাই কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে পরদিন তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান মারিয়ার মা শারতিসহ স্বজনেরা। তাঁরা মারিয়ার দাঁত ভাঙা এবং মাথা, কপাল, গলা ও পা-সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন দেখতে পান। এ সময় ময়নাতদন্তের দাবি জানালেও তা উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে লাশ নিজেদের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করে ছেলের পরিবার।
আরও
নিহতের মা শারতির অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। তবে হতদরিদ্র ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় মামলার খরচ জোগানোর ভয়ে তাঁরা থানায় কোনো অভিযোগ করতে পারেননি। অন্যদিকে, মোহসিনের মায়ের দাবি, তাঁর পুত্রবধূ আগে থেকেই ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন এবং এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু। এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, তরুণীর মৃত্যুর খবর তিনি শুনেছেন, তবে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








