সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি মানচিত্র শেয়ার করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র নাম বদলে ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ বা ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, কোনো ধরনের ক্যাপশন ছাড়াই গ্রাফিকটি মূলত ‘IStandWithTrump47’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছিল, যা ট্রাম্প রিটুইট করেন। এর আগে নিজের এক বক্তৃতায়ও ট্রাম্প এই প্রণালিকে বোঝাতে নিজের নামের এই শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। তখন উপস্থিত দর্শকেরা হেসে উঠলে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, গণমাধ্যম হয়তো প্রথম দিকে এটিকে ভুল হিসেবে আখ্যা দিতে পারে, কিন্তু সবাই জানে যে তিনি খুব কমই ভুল করেন।
ট্রাম্পের এই বিতর্কিত পোস্টটি এমন এক উত্তেজনাকর ভূ-রাজনৈতিক সময়ে এল, যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ অবরোধ আরও কয়েক মাস অব্যাহত থাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে কার্যকর হওয়া এই মার্কিন অবরোধের মূল লক্ষ্যবস্তু হলো ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশকারী এবং বন্দর ত্যাগকারী বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজগুলো। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক এই অবরোধের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে, যার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গত চার বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে।
এদিকে, এই সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই গত সপ্তাহের শেষে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলের পাকিস্তানের ইসলামাবাদ সফরের কথা থাকলেও তা হঠাৎ বাতিল করে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থার বিষয়ে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘সব কার্ড এখন আমাদের হাতেই রয়েছে; ইরান যদি আলোচনা করতে চায়, তবে তাদেরকেই আমাদের কাছে আসতে হবে বা ফোন করতে হবে।’ এর আগে এই সংকট নিরসনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে তেহরানের সঙ্গে একদফা আলোচনা হলেও তা কোনো ধরনের চুক্তি বা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
আরও
তবে এই পাল্টাপাল্টি কঠোর অবস্থানের মাঝেও সংকট সমাধানের একটি প্রস্তাব সামনে এসেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, তারা যদি অবিলম্বে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় এবং চলমান এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের অবসান ঘটায়, তবে ইরানও পুনরায় হরমুজ প্রণালি বিশ্ববাণিজ্যের জন্য খুলে দেবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট সম্প্রতি তেহরানের কাছ থেকে এমন প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। এখন দেখার বিষয়, বৈশ্বিক তেলের বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখিতার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের এই শর্তযুক্ত প্রস্তাবে কীভাবে সাড়া দেয়।









