সর্বশেষ

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি-ইরাক নতুন ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা

Image 195231 1749392481 copyProbashircityWebPopupUpdate

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ছায়াযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে সৌদি আরব ও ইরাক। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইরাকি শিয়া মিলিশিয়ারা সম্প্রতি সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে কয়েক ডজন ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গত পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার বিষয়টি এখন প্রকাশ্য একটি ‘ছায়াযুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে নতুন করে ঘোলাটে করার স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, দেশটিতে হওয়া প্রায় এক হাজার ড্রোন হামলার অর্ধেকই সরাসরি ইরাকের ভেতর থেকে চালানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ ইয়ানবু তেল শোধনাগার এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের তেলক্ষেত্রগুলোতেও এসব নিখুঁত হামলা চালানো হয়। শুধু সৌদি আরবই নয়, ইরাক থেকে ছোড়া ড্রোন কুয়েতের একমাত্র বেসামরিক বিমানবন্দরকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বাহরাইনেও তারা হামলা চালায়। এমনকি ইরাকের অভ্যন্তরে থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পদেও মিলিশিয়ারা আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে বসরার কুয়েতি কনস্যুলেট এবং কুর্দিস্তানে অবস্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের কনস্যুলেট উল্লেখযোগ্য।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের আড়ালেই মূলত এই নতুন সংঘাত দানা বাঁধছে। ইরান নিজেও ইতিমধ্যে ইসরায়েল এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলোসহ প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যেখানে ইরাকি মিলিশিয়া ও লেবাননের হিজবুল্লাহ তাদের আক্রমণ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দুই দশক আগে মার্কিন আগ্রাসনের পর জন্ম নেওয়া ইরাকের এসব শিয়া মিলিশিয়া বর্তমানে বিশাল এক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রায় আড়াই লাখ সদস্যের এই বাহিনীগুলোর কাছে কোটি কোটি ডলারের তহবিল ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল ভান্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ‘কাতায়িব হিজবুল্লাহ’ এবং ‘আসায়িব আহল আল-হক’-এর মতো শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলো সরাসরি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডের অধীনে কাজ করছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

ইরান-বিরোধিতা এবং আমেরিকার সঙ্গে সখ্যের কারণে এই মিলিশিয়ারা দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতকে হুমকি দিয়ে আসছিল। গত কয়েক সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে তারা ভয়াবহ ও নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতিতে চরম হুমকিতে থাকা উপসাগরীয় দেশগুলো এখন ইরাককে এমন একটি জায়গা হিসেবে বিবেচনা করছে, যেখানে তারা নিজেদের পাল্টা হামলা চালাতে পারে। তাদের ধারণা, সরাসরি ইরানের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার বদলে ইরাকে অবস্থানরত এসব মিলিশিয়াদের লক্ষ্যবস্তু করলে ইরানের কঠোর প্রতিশোধ এবং সরাসরি যুদ্ধের বৃহত্তর ঝুঁকি সহজেই এড়ানো সম্ভব হবে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate
ProbashircityWebBannerUpdate