যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানকে আবারও ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নেওয়া হবে, কারণ তারা সেখানেই থাকার যোগ্য। বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে।
ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় দেশটির সব বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে বলে স্পষ্ট আলটিমেটাম দিয়েছেন তিনি।
চলমান সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা অব্যাহত থাকবে। তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী যতটুকু অগ্রসর হয়েছে, তাতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তেহরানে তাদের সামরিক লক্ষ্যগুলো শেষ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ ইরানে অত্যন্ত কঠোর হামলা চালিয়ে তাদের ৩৩ লাখ বছর পুরোনো সেই প্রস্তর যুগে ফেরত পাঠানো হবে, যখন মানুষ কেবল মারণাস্ত্র তৈরি বা আগুন জ্বালাতে পাথরের ব্যবহার শিখছিল।
আরও
ইরানের শাসনক্ষমতা প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ওই ভাষণে তিনি দাবি করেন, ইরানে সরকার পরিবর্তনের কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা চিন্তাভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের ছিল না। তবে চলমান এই সংঘাতে দেশটির শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব নেতাই নিহত হওয়ায় কার্যত সেখানে আপনাআপনিই একটি সরকার পরিবর্তন ঘটে গেছে।
চুক্তিতে না পৌঁছালে পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সে বিষয়ে তেহরানকে সরাসরি সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বেঁধে দেওয়া এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে ইরানের বিদ্যুৎ খাত। সে ক্ষেত্রে একই সঙ্গে দেশটির সব বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে তা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।











