আফগানিস্তানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পরিচালিত বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন গজব লিল-হক’–এর জেরে গত ৪০ দিনে ৭৯৬ জন তালেবান সেনা নিহত হয়েছেন। চলমান এই অভিযানে আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪৩ জনের বেশি তালেবান সদস্য। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার গতকাল রোববার এই দাবি করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় আতাউল্লাহ তারার জানান, অপারেশন গজব লিল-হক শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০ ঘণ্টা পার হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আফগানিস্তানে ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি তালেবান বাহিনীর ২৮৬টি সেনাছাউনি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৪৪টি ছাউনি দখল করে নিয়েছেন পাকিস্তানি সেনারা। এ ছাড়া আফগান বাহিনীর ২৪৯টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, আর্টিলারি গান ও ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২ ও ৩ এপ্রিল পাক-আফগান সীমান্তে সম্মুখযুদ্ধে ৩৭ জন তালেবান যোদ্ধাকে পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করেছে বলেও ওই পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
গত কয়েক বছর ধরেই তালেবানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ব্যাপক সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতার অভিযোগে কয়েক বছর আগেই টিটিপিকে নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার টিটিপিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি অস্ত্র ও রসদ দিয়ে সহযোগিতা করছে। তবে তালেবান সরকার বরাবরই পাকিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
আরও
টিটিপি ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যকার এই চরম তিক্ততার মধ্যেই গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এতে অন্তত ৮০ জন নিহত হন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর তখন দাবি করেছিল, নিহত ব্যক্তিরা সবাই টিটিপির যোদ্ধা। কিন্তু আফগান সরকার পাল্টা দাবি করে, জঙ্গিঘাঁটি নয়, লোকালয়ে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এর বদলা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেয় তারা। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে খাইবার পাখতুনখোয়ার আফগান সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইনে অবস্থিত পাকিস্তানি সেনা চৌকিতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন সেনাকে হত্যা ও অপহরণ করে আফগান সেনারা। এরই জেরে ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ শুরু করে পাকিস্তান, যা এখনো চলমান রয়েছে। সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।











