মালদ্বীপে অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান ‘অপারেশন কুরাঙ্গি’র তৃতীয় ধাপ আগামী ২ মে থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এই ধাপে ভিসা-ফি পরিশোধ না করা এবং অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইহুসান সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নিয়ম অমান্যকারী এসব অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করে সরাসরি তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, মালদ্বীপ সরকারের এই কঠোর অভিযানের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর। দেশটিতে কর্মরত অভিবাসী কর্মীদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং অবৈধ বসবাসকারীদের চিহ্নিত করতে ২০২৪ সালের ২ মে থেকে বর্তমান সরকার দেশব্যাপী এই বিশেষ অভিযান শুরু করে। অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘অপারেশন কুরাঙ্গি’ সরকারের অন্যতম একটি মেগা উদ্যোগ হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে।
সম্প্রতি মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইহুসান এই অভিযানের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই অভিযান শুরুর আগে দেশটিতে মাত্র ২৮.৯৭ শতাংশ অভিবাসী বৈধভাবে কর্মরত ছিলেন, বাকিদের কোনো সঠিক তথ্য সরকারের কাছে ছিল না। তবে গত দুই বছর ধরে ‘অপারেশন কুরাঙ্গি’র অধীনে ধারাবাহিক অভিযানের ফলে বৈধ অভিবাসীর এই হার ৬২ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এখনো ২ হাজার ৯৩৩ জন অভিবাসী তাঁদের তথ্য জমা দেননি, যাঁদের আগামী এক বছরের মধ্যে নিয়মের আওতায় আনা হবে।
আরও
আগামী ২ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘অপারেশন কুরাঙ্গি’র তৃতীয় ধাপে ভিসা-ফি পরিশোধ না করা ও তথ্য জমা না দেওয়া অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। মালদ্বীপ সরকার সতর্ক করে জানিয়েছে, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবারের অভিযান আরও কঠোরভাবে পরিচালিত হবে। অভিযানে ধরা পড়লে কোনো ধরনের স্থানীয় প্রভাব বা সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না এবং একবার আটক হলে ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগও থাকবে না। তাই দেশটিতে বসবাসরত সবাইকে মালদ্বীপের আইন কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।










