মালয়েশিয়ায় ২০২৪ সালে শুরু হওয়া কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের পর থেকে দেশটির বিভিন্ন বন্দিশিবিরে (ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টার) অন্তত ১৪০ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড়, অমানবিক পরিবেশ ও চিকিৎসায় চরম অবহেলার কারণেই এই বিপুলসংখ্যক প্রাণহানি ঘটেছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোর্টিফাই রাইটস’। সংস্থাটি অবিলম্বে এসব মৃত্যুর সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই উদ্বেগজনক চিত্র সামনে আসে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মালয়েশিয়ার বন্দিশিবিরগুলোতে নারী ও শিশুসহ মোট ৪৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ২০২৪ সালের অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১৪০ জন। ফোর্টিফাই রাইটস জানিয়েছে, বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দি রাখায় শিবিরগুলোতে চরম মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। ২১ হাজার ৫৩০ জনের ধারণক্ষমতা থাকলেও সেখানে রাখা হয়েছে ২২ হাজার ৪৫ জনকে। দূষিত পানি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবার অভাবে বন্দিরা সেপসিস, লেপ্টোস্পাইরোসিস ও মেনিনজাইটিসের মতো প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা পেলে এসব অকাল মৃত্যুর অধিকাংশই এড়ানো সম্ভব হতো বলে মনে করছে মানবাধিকার সংস্থাটি।
আরও


শিবিরগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ফোর্টিফাই রাইটস জানায়, বন্দিদের সঙ্গে চরম অমানবিক আচরণ করা হতো। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বন্দিশিবিরে অসুস্থতার কথা জানালে উল্টো মারধরের শিকার হতে হতো এবং মুমূর্ষু অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত কাউকে হাসপাতালে নেওয়া হতো না। যেকোনো সাধারণ বা গুরুতর অসুস্থতায় নামমাত্র চিকিৎসাস্বরূপ কেবল প্যারাসিটামল দিয়ে ফেলে রাখা হতো। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও ‘নেলসন ম্যান্ডেলা রুলস’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে ফোর্টিফাই রাইটসের জ্যেষ্ঠ পরিচালক পিটার বাউকার্ট বলেন, নিজেদের হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের আইনি দায়িত্ব। ভবিষ্যতের প্রাণহানি এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অতীতের এসব মৃত্যুর জন্য দায়ীদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।











