মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে (আটক কেন্দ্র) ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোট ৪৬৫ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সংসদে এক লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আলোচিত ৫ বছরে ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে মোট ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৫৬ জন বন্দিকে রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ। মৃতদের মধ্যে ৮৪.৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৬০ জন নারী ছিলেন। এ ছাড়া মৃত বন্দিদের মধ্যে ১২ জন শিশুও রয়েছে, যাদের মধ্যে আটজন ছেলে ও চারজন মেয়ে। তবে মারা যাওয়া ৪৬৫ জনের মধ্যে ঠিক কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

আরও
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২২২ জন ফিলিপিনো নাগরিক। এর পরেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ১০৯ জন এবং মিয়ানমারের ৬১ জন নাগরিক। বাকি ৭৩টি ক্ষেত্রে (১৫.৭ শতাংশ) বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিরা রয়েছেন। এ ছাড়া এই তালিকায় পাকিস্তান, ইরাক, ইরান, বতসোয়ানা, ভেনেজুয়েলা, ব্রুনাই, ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকেরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দিদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন বলেন, মৃতদের বেশির ভাগই সেপসিস ও সেপটিক শক, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ, পরিপাকতন্ত্র ও যকৃতের রোগ এবং এইচআইভি/এইডস, লেপ্টোস্পাইরোসিস ও মেনিনজাইটিসের মতো বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
বন্দিদের মানবিক অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়ে তিনি জানান, ডিপো কমান্ডারের অনুমতি সাপেক্ষে আটককৃতদের ফোন কল, চিঠি বা সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া অভিবাসন বিভাগ আটক কেন্দ্রগুলোর প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু উন্নত পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রে প্রবেশের সময়ই প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্রের আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ। সংক্রামক ব্যাধি কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যজনিত জরুরি অবস্থার রোগীদের আলাদা রাখা এবং প্রয়োজনে দ্রুত সরাসরি হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থাও কার্যকর করা হয়েছে।










