মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন এলআরটি ও এমআরটি স্টেশনে পাঁচ নারীকে হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির দায়ে এক বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিককে দেড় বছরের কারাদণ্ড এবং বেত্রাঘাতের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। বুধবার (১৩ মে) সাজা পর্যালোচনার পর এই নতুন রায় ঘোষণা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই বাংলাদেশির নাম মোহাম্মদ রমজান আলী (৪১), যিনি পেশায় একজন নির্মাণশ্রমিক হিসেবে দেশটিতে কর্মরত ছিলেন। মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘মালয় মেইল’-এর এক প্রতিবেদন থেকে এই আইনি শাস্তির তথ্য জানা গেছে।
মামলার বিবরণী ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ রমজান আলী গত ১০ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন এবং চলন্ত সিঁড়িতে (এসকেলেটর) এই হেনস্তার ঘটনাগুলো ঘটান। তিনি মূলত শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যেই মোট পাঁচজন নারীকে উত্ত্যক্ত করেন, যাদের মধ্যে চারজন মালয়েশিয়ান এবং একজন জার্মান নাগরিক। ভুক্তভোগী ওই নারীদের বয়স ২১ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। তাদের দায়ের করা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্তে নামে এবং গত ২৭ এপ্রিল রমজান আলীকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে গত ৬ মে রমজান আলী নিজের বিরুদ্ধে ওঠা শ্লীলতাহানির সব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেন। ওই দিন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে প্রাথমিক রায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১৪ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানার শাস্তি প্রদান করেছিলেন। তবে বুধবার আদালত সেই পূর্বের সাজাটি পর্যালোচনা করে তাঁকে নতুন করে দেড় বছরের কারাদণ্ড এবং একটি বেত্রাঘাত করার কঠোর নির্দেশ দেন। আদালত আরও জানিয়েছেন, আসামির এই কারাদণ্ড তাঁর গ্রেপ্তারের দিন অর্থাৎ গত ২৭ এপ্রিল থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।
আরও
এদিকে, মামলার চূড়ান্ত বিচার চলাকালীন আদালতে মোহাম্মদ রমজান আলীর ভাই উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্তের পরিবারের পক্ষ থেকে সাজা মওকুফ করে তাঁকে নিজ দেশ বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু মালয়েশিয়ার আদালত তাদের এই অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। দেশের কঠোর আইনের শাসন, নারীদের নিরাপত্তা এবং জনশৃঙ্খলার স্বার্থে আদালত অপরাধীকে এই আইনি শাস্তির আওতাতেই রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।











