মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া সাধারণ ক্ষমার আওতায় কোনো ধরনের আইনি শাস্তির বা বিচারের মুখোমুখি না হয়েই নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি অনিয়মিত অভিবাসী। ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ নামের এই কর্মসূচির আওতায় মাত্র ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা দিয়ে তাঁরা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারছেন। এই সুযোগ নেওয়া অভিবাসীদের তালিকায় ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের নাগরিকেরাই শীর্ষে রয়েছেন।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, গত বছরের ১৯ মে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ২৮ হাজার ৯৬১ জন বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৪ হাজার ৫২৩ জনকে এরই মধ্যে সফলভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সাধারণ ক্ষমার এই কর্মসূচির ফি বাবদ মালয়েশিয়া সরকারের প্রায় ১১ কোটি ৪৫ লাখ রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৩২ কোটি টাকা) আয় হয়েছে।
আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই প্রত্যাবাসন কর্মসূচি চলার কথা রয়েছে। তবে অভিবাসীদের ব্যাপক সাড়া এবং বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে বলে সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক।
আরও
মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচিটি মূলত একটি স্বেচ্ছামূলক সাধারণ ক্ষমা উদ্যোগ, যা কাগজপত্রহীন (নথিপত্রহীন) অভিবাসীদের জেল-জরিমানার মতো শাস্তির সম্মুখীন না হয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়।
তবে এই সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। নির্দিষ্ট কিছু শর্তের কারণে অনেকেই এই সুযোগ পাবেন না। যেমন:
যাঁরা এর আগের কোনো প্রত্যাবাসন উদ্যোগে নিবন্ধন করেও নির্দিষ্ট সময়ে দেশ ছাড়তে ব্যর্থ হয়েছেন।
যাঁদের মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্টেড) করা হয়েছে।
সে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যাঁদের খুঁজছে।










