পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রুহুল আমিন (৩৮)। আসন্ন ঈদুল আজহায় তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন মাটি চাপা পড়ে গেছে জোহর বারুর একটি নির্মাণস্থলে। মৃত্যুর ১০ দিন পর গতকাল রোববার সকালে তাঁর লাশ নিজ গ্রাম বামন্দী ইউনিয়নের দেবীপুর পুকুরপাড়ায় পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়ার জোহর বারু এলাকায় একটি নালা (ড্রেন) নির্মাণের কাজ করতেন রুহুল আমিন। সম্প্রতি সেখানে ২৫ থেকে ৩০ ফুট গভীরে কাজ করার সময় হঠাৎ মাটি ধসে পড়লে তিনি চাপা পড়েন। অন্যান্য শ্রমিকেরা দ্রুত ওপরে উঠতে সক্ষম হলেও রুহুল আমিন ভেতরেই আটকে যান এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রবাসী সহকর্মীদের সহায়তায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার সকাল ৯টার দিকে তাঁর লাশ গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। পরে বেলা ১১টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
বাবার অকালমৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে গেছেন রুহুল আমিনের সন্তানেরা। তাঁর মেজ মেয়ে রুনা লায়লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কোরবানির ঈদে বাবার বাড়ি আসার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আমাদের এতিম করে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন। রুহুল আমিনের বড় ভাই বজলুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, পরিবারের অভাব ঘোচাতেই সে বিদেশে গিয়েছিল। কিন্তু আমার আগেই সে পৃথিবী থেকে বিদায় নিল। রুহুল আমিনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছোট ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে পুরো পরিবার।
আরও
নিহত প্রবাসীর পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে রুহুল আমিনের বৈধ কাগজপত্র দাখিল করা হলে সরকারি নিয়মানুযায়ী যেসব সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য, তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করবে। এ ছাড়া স্থানীয় বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম জানিয়েছেন, লাশ দেশে আনার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকবেন তাঁরা।\










