চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলার জেরে দেশের স্টিল শিল্পে চরম চাপ সৃষ্টি হওয়ায় নিজেদের স্টিল স্ল্যাব ও শিট রপ্তানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইরান। ইরানের ট্রেড প্রমোশন অর্গানাইজেশনের এক নির্দেশনার বরাতে সোমবার (২৭ এপ্রিল) টিআরটি ওয়ার্ল্ড-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, আগামী ৩০ মে পর্যন্ত এই রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। এর আগে, ইরানের স্টিল উৎপাদকদের সংগঠনের এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে উল্টো স্টিল স্ল্যাব ও হট-রোলড শিট আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী দুই মাসের জন্য কাঁচামালের চাহিদা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য সরকার একটি জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে। ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) একটি জরুরি প্রতিক্রিয়া কমিটি বা ‘কোবরা’ (COBRA) বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি নিজেই এই ঘোষণা দেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। মূলত চলমান বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে দেশের কর্মজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াতে ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় করণীয় নির্ধারণ করতেই এই বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তান ও ওমান সফরের পর ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে রাশিয়ায় পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সেন্ট পিটার্সবার্গে নেমেই তিনি শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের আরাগচি জানান, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত চাহিদার’ কারণেই ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্যর্থ হয়েছে। নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে শেয়ার করা একটি সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, এই সফরে রুশ মিত্র ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং কোন কোন শর্তসাপেক্ষে ফের আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কথা হবে।
আরও
রাশিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার বিষয়টিও নতুন করে উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ওমানসহ হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় এবং এই জলপথের নিরাপত্তায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক এই বহুমুখী পদক্ষেপগুলো মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ সমীকরণকে বিশ্বমঞ্চে আরও জটিল করে তুলছে।










