আমাদের সমাজে একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর মেয়েদের বিয়ের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়ার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক তরুণী হাসিমুখে নিজের মাথা ন্যাড়া করে ফেলছেন। দাবি করা হচ্ছে, পরিবারের ঠিক করা বিয়ে ঠেকাতেই তিনি এমন পথ বেছে নিয়েছেন। তবে এই ভিডিওর পেছনের প্রকৃত কারণ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
‘কীর্তনা.মেনন’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, লাল রঙের পোশাক পরা এক তরুণী অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে বসে আছেন। একজন নাপিত তাঁর মাথার চুল কামিয়ে দিচ্ছেন এবং কোলের ওপর রাখা সাদা কাপড়ে সেই কাটা চুল এসে পড়ছে। পুরোটা সময় ওই তরুণীর মুখে ছিল একচিলতে প্রশান্তির হাসি। ভিডিওর গায়ের লেখায় উল্লেখ ছিল যে, তাঁর মা বিয়ের বন্দোবস্ত করেছিলেন। এই লেখাটি দেখেই অধিকাংশ মানুষ ধারণা করে নিচ্ছেন, পরিবারের চাপিয়ে দেওয়া সেই বিয়ে আটকাতেই তরুণী এমন অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশের পর ভিডিওটি রীতিমতো ঝড় তুলেছে। এটি এরই মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি বার দেখা হয়েছে এবং চার লাখের কাছাকাছি লাইক পড়েছে। প্রায় ছয় হাজার মন্তব্যে অনেকেই তরুণীর সাহসের প্রশংসা করে একে নারীর নিজস্বতা ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তবে অনেকেই আবার এই দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে মানত পূরণের অংশ হিসেবে মন্দিরে চুল উৎসর্গ করার প্রাচীন প্রচলন রয়েছে। তরুণী নিজে কোথাও স্পষ্ট করে বিয়ে এড়ানোর কথা না বলায়, এটি কোনো ধর্মীয় আচারের অংশ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আরও
View this post on Instagram
এখন পর্যন্ত ওই তরুণীর বিস্তারিত পরিচয়, তিনি ঠিক কোন অঞ্চলের বাসিন্দা কিংবা মাথা ন্যাড়া করার পর তাঁর পরিবারের কী প্রতিক্রিয়া—এসব বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। স্বাধীনভাবে এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করাও সম্ভব হয়নি। ফলে বিয়ে ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই তিনি চুল বিসর্জন দিয়েছেন, নাকি এর পেছনে প্রচলিত কোনো বিশ্বাস জড়িয়ে আছে, তা আপাতত অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।










