ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় অবস্থিত প্রায় হাজার বছরের পুরোনো বিতর্কিত কামাল মাওলা মসজিদ ও সংলগ্ন স্থাপনাটিকে ‘সরস্বতী মন্দির’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল এবং বিচারপতি অলোক অবস্থীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুক্রবার এই রায় প্রদান করেন। রায়ে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মুসলিম পক্ষ যেন তাঁদের নামাজ আদায়ের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে বিকল্প কোনো স্থান চেয়ে নেন। ঐতিহাসিক এই রায়ের ফলে ভোজশালা-কামাল মাওলা মসজিদ নিয়ে দীর্ঘদিনের চলমান আইনি ও ধর্মীয় বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ হলো।

ভোজশালা-কামাল মওলানার দরগা ও মসজিদকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। হিন্দুত্ববাদীদের দাবি ছিল, এই স্থাপনাটি আসলে রাজা ভোজের তৈরি করা একটি প্রাচীন সরস্বতী মন্দির। অন্যদিকে, মুসলিম পক্ষ এটিকে কামাল মাওলা মসজিদ হিসেবে দাবি করে আসছিলেন। এত দিন রাজ্য সরকারের মধ্যস্থতায় প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুদের পূজা এবং প্রতি শুক্রবার মুসলিমদের নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হতো। তবে ২০২২ সালে ‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’-সহ কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন স্থাপনাটিতে একচ্ছত্র হিন্দু উপাসনার অধিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলে আইনি লড়াই শুরু হয়।
আরও
আদালতের নির্দেশে ২০২৪ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) স্থাপনাটিতে দীর্ঘ ৯৮ দিন ধরে একটি ‘বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা’ পরিচালনা করে। তাদের প্রায় দুই হাজার পাতার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে বর্তমানে যেখানে মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে আগে পারমার বংশের আমলে তৈরি বিশাল একটি কাঠামো বিদ্যমান ছিল। এএসআই-এর দেওয়া এই প্রতিবেদনের তথ্যপ্রমাণ ও ঐতিহাসিক সাহিত্য বিশ্লেষণ করে আদালত সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে এই স্থানে হিন্দু উপাসনার ধারাবাহিকতা কখনোই পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি এবং এটি মূলত রাজা ভোজের একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র ছিল।
রায়ে আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে ভোজশালার এই অংশের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার পূর্ণ তত্ত্বাবধান করবে এএসআই। লন্ডনের জাদুঘরে সংরক্ষিত সরস্বতীর প্রাচীন প্রতিমাটি ফিরিয়ে এনে ভোজশালায় স্থাপন করার বিষয়ে হিন্দু পক্ষের করা আবেদনগুলো কেন্দ্রীয় সরকারকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিচারপতিরা। অন্যদিকে, এই রায় ও এএসআই-এর সমীক্ষা প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিযোগ করেছে মুসলিম পক্ষ। নামাজের জন্য ভিন্ন স্থান খুঁজে নেওয়ার নির্দেশের বিষয়ে তাঁরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।











