Long Popup (2)
সর্বশেষ

চীনে নারী সংকট, বিয়ের বাজারে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন পুরুষরা!

ScreenshotProbashircityWebPopupUpdate

চীনের ৩৭ বছর বয়সী ওয়াং চুয়াং যখন জীবনসঙ্গী পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন, ঠিক তখনই একটি ঘটক এজেন্সির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন তাঁর নজরে আসে। সেখানে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুইঝৌ প্রদেশের নারীরা মিতব্যয়ী, সংসারী এবং তাঁরা স্থায়ী সম্পর্ক গড়তে অত্যন্ত আগ্রহী। এই আশ্বাসে বিশ্বাস করে ওয়াং গুইয়াং শহরে ছুটে যান এবং সেখানে অত্যন্ত কড়াকড়ির মধ্যে মাত্র কয়েকবার আট-দশ মিনিটের আলাপের ভিত্তিতে এক নারীকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান ছাড়াই মাত্র দু-তিন দিনের পরিচয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তিনি। এর বিনিময়ে ঘটক এজেন্সির হাতে নিজের সারা জীবনের সঞ্চিত প্রায় তিন লাখ ইউয়ান বা ৫৪ লাখ টাকার বেশি ‘বধূমূল্য’ হিসেবে তুলে দেন। আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বিয়ের পেছনে তাঁর মোট ব্যয় দাঁড়ায় চার থেকে পাঁচ লাখ ইউয়ান।

তবে বিয়ের কয়েক মাস পেরোতেই ওয়াংয়ের নতুন সংসার সাজানোর স্বপ্ন ভয়ংকর দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। স্ত্রীর পাওনাদারদের ক্রমাগত চাপের মুখে তিনি স্ত্রীর অতীত সম্পর্কে খোঁজ নিতে শুরু করেন। স্ত্রীর মুঠোফোন ঘেঁটে তিনি জানতে পারেন, ওই নারী আগে একটি কারাওকে বারে কাজ করতেন এবং তিনি একটি গুরুতর যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত। শুধু তা-ই নয়, বয়সের তথ্য গোপন করা ওই নারী এর আগে আরও তিনবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং তাঁর তিনটি সন্তানও রয়েছে। এসব বিষয়ে জবাবদিহি চাইলে স্ত্রী উল্টো বিবাহবিচ্ছেদের হুমকি দেন, তবে নেওয়া অর্থের কানাকড়িও ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। নিরুপায় হয়ে ওয়াং সেই ঘটক এজেন্সির কার্যালয়ে গিয়ে দেখেন, সেটি তত দিনে উধাও হয়ে গেছে। প্রতারণার শিকার হয়ে বর্তমানে তিনি আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে অন্য পুরুষদের সতর্ক করছেন।

ওয়াংয়ের এই মর্মান্তিক পরিণতি মূলত চীনের দীর্ঘদিনের জনসংখ্যাগত সংকটেরই একটি চরম ও রূঢ় বহিঃপ্রকাশ। দেশটিতে কয়েক দশক ধরে চলা ‘এক সন্তান নীতি’ এবং ছেলেসন্তানের প্রতি সামাজিক ঝোঁকের কারণে নারী-পুরুষের অনুপাতে বিশাল ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে চীনে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি বেশি, যার ফলে প্রত্যন্ত বা গ্রামীণ এলাকার অনেক পুরুষের পক্ষেই জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরুষদের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে উচ্চ অঙ্কের বধূমূল্য দাবি করার প্রবণতা মারাত্মকভাবে বেড়েছে এবং গুইঝৌর মতো এলাকাগুলোতে ‘ফ্ল্যাশ ম্যারেজ’ বা দ্রুত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারক চক্রগুলো রমরমা ব্যবসা ফেঁদে বসেছে।

ফ্ল্যাশ ম্যারেজের আড়ালে এই ভয়াবহ প্রতারণা ইতিমধ্যে চীনা কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে ঘটকশিল্পসংশ্লিষ্ট এ ধরনের প্রতারণার মামলায় ১ হাজার ৫৪৬ জনের বিচার চলছে। সম্প্রতি দেশব্যাপী পাঁচটি পৃথক সরকারি কর্তৃপক্ষ এসব অবৈধ ঘটক এজেন্সির বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানও শুরু করেছে। তবে আইনজীবী ফান বিংহে জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রতারণার ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার পাওয়া বেশ কঠিন। কারণ, অভিযুক্তরা প্রায়ই দাবি করেন যে তাঁরা সংসার করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরে বনিবনা না হওয়ায় সম্পর্ক ভেঙে গেছে। ফলে পরিকল্পিত প্রতারণা এবং সাধারণ দাম্পত্য কলহের মধ্যে আইনি পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার শিগগিরই এই খাতের জন্য কঠোর ও সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিস

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate