সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার জেরে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা এবং নতুন ভিসায় দেশটিতে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এসব কর্মীর যাত্রা ঢাকাতেই আটকে গেছে। তবে ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে আসা এবং কর্মস্থলে ফিরতে সমস্যায় পড়া এসব প্রবাসীর উৎকণ্ঠা কমাতে বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য সরকারের এই উদ্যোগের কথা জানান তিনি।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যমতে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে অন্তত আটটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার ফলে প্রায় তিন হাজার (২ হাজার ৯৫১ জন) যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। নতুন চাকরিতে যোগ দিতে লাখ লাখ টাকা খরচ করে আসা কর্মী থেকে শুরু করে ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে চাওয়া প্রবাসীরাও এখন দিশাহারা। অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বা ঘণ্টা বাকি। সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারলে চাকরি হারানো এবং দেশে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি ঘাড়ে ঋণের বোঝা চাপার আশঙ্কায় নির্ঘুম সময় পার করছেন তাঁরা। দীর্ঘক্ষণ বিমানবন্দরে অপেক্ষার পরও ফ্লাইটের নিশ্চয়তা না পেয়ে অনেককেই চরম হতাশা নিয়ে গ্রামে ফিরে যেতে হয়েছে।
আরও


বিদেশে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার হলো সৌদি আরব। জনশক্তি ব্যুরো ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদায়ি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশ (প্রায় ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার) এসেছে এই একটি দেশ থেকেই। একে তো চলতি বছর বিদেশে কর্মসংস্থান গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশ কমেছে, তার ওপর সৌদিতে ফ্লাইট চলাচলের এই আকস্মিক বিঘ্ন প্রবাসী পরিবারগুলোর পাশাপাশি অর্থনীতিতেও নতুন করে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারিভাবে বিকল্প ফ্লাইটের উদ্যোগটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে এবং প্রবাসীরা সময়মতো কর্মস্থলে ফিরতে ব্যর্থ হলে এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর গিয়েও পড়বে।











