রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ স্বর্ণালংকারসহ সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (১৩ এপিবিএন)। আজ মঙ্গলবার সকালে বিমানবন্দরের বহুতল কার পার্কিং এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত প্রায় ৪৭৬ গ্রাম ওজনের এসব স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য পঁচাত্তর লাখ টাকারও বেশি।
গ্রেপ্তারকৃত দুই ব্যক্তি হলেন খায়রুল হাসান আকন (২৯) ও শেখ আরিফুল ইসলাম (৪৬)। এপিবিএন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই দুজন কার পার্কিংয়ের নিচতলায় বাইরের ফটকের সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা সুকৌশলে পালানোর চেষ্টা করলে এপিবিএন সদস্যরা তাঁদের আটক করেন। পরে তাঁদের দেহ তল্লাশি করে ২১ ক্যারেট মানের ৪০.৭৮ ভরি (৪৭৫.৬ গ্রাম) স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার সুনির্দিষ্ট বাজারমূল্য ৭৫ লাখ ৬২ হাজার ৪০ টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে শাহজালাল বিমানবন্দরকেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। মূলত বিভিন্ন দেশ থেকে আগত যাত্রীদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বাহক বা ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করে এই চক্রটি। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আনা এসব স্বর্ণালংকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করাই ছিল তাঁদের প্রধান কাজ। সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দরে কাস্টমস ও এপিবিএনের নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হলেও চোরাকারবারিরা নিত্যনতুন কৌশলে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনসহ অজ্ঞাত ওই যাত্রীদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর অধীনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিমানবন্দর এলাকায় চোরাচালান রোধের বিষয়ে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার (অপারেশনস) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, স্বর্ণ ও মাদক চোরাকারবারিদের অপতৎপরতা রুখতে এপিবিএন বদ্ধপরিকর। বিমানবন্দর ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের চোরাচালান ও অপরাধ দমনে তাঁদের এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।











