মুফতি আমির হামজার ধারাবাহিক বিতর্কিত ও অসংলগ্ন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি প্রফেসর ডক্টর জাফর সিদ্দিকী এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, একজন ধর্মীয় আলোচকের মুখে এমন দায়িত্বহীন ও প্রমাণহীন বক্তব্য সাধারণ মানুষের মনে তাঁর অবস্থান ও বক্তব্যের ভিত্তি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
বিবৃতিতে ডক্টর জাফর সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, মুফতি আমির হামজা কখনো নির্দিষ্ট একজন অভিনেত্রীর সৌন্দর্য নিয়ে বেমানান মন্তব্য করছেন, কখনোবা জাতীয় সংসদে নারীদের পোশাক নিয়ে কথা বলছেন। আবার নিজেকে ‘কুষ্টিয়ার প্রধানমন্ত্রী’ বলে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ করার পাশাপাশি গণঅধিকার পরিষদকে নিয়েও তিনি বিভিন্ন অবমাননাকর ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন। ডক্টর জাফর সিদ্দিকী বলেন, ‘মুফতি’ পরিচয়টি শুধু একটি সাধারণ উপাধি নয়, এর সঙ্গে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সংযম এবং জবাবদিহির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ধর্মের কথা বা রাজনৈতিক বক্তব্য যা-ই দেওয়া হোক না কেন, তা দায়িত্বশীলতা ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। ধর্মীয় পরিচয় কাউকে ভিত্তিহীন কথা বলার বা রাজনৈতিকভাবে কাউকে হেয় করার বৈধতা দেয় না।
গণঅধিকার পরিষদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অপপ্রচার ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না বলে বিবৃতিতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তার জবাব কোনোভাবেই হামলা, গালি বা অপপ্রচার দিয়ে নয়, বরং তা যুক্তি, তথ্য ও গণতান্ত্রিক রীতির মাধ্যমে দিতে হবে। একই সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে। সবশেষে মুফতি আমির হামজার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, তিনি যেন শালীনতা বজায় রেখে প্রমাণসহ বক্তব্য দেন এবং সত্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সীমারেখা মেনে চলেন।












