চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের লাঠির আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন মোহাম্মদ শাহজাহান (৫০) নামের এক ব্যক্তি। এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশ ছেড়ে ওমান পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত ছেলে বোরহান উদ্দিন শওকতকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেলে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কোকদণ্ডী নিদা গাজী পাড়া এলাকায় মর্মান্তিক এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। ওমানপ্রবাসী শওকত সম্প্রতি পরিবারের অমতে বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে আসেন। বিয়ে মেনে না নেওয়া এবং বাড়ি নির্মাণের ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিবারের নারী সদস্যদের মধ্যেও তুমুল ঝগড়া বেধে যায়। পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে বাবা শাহজাহান তাঁর মেয়েকে চড় মারতে গেলে সেটি ভুলবশত নতুন পুত্রবধূর গায়ে লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শওকত হাতের কাছে থাকা লাঠি দিয়ে বাবার মাথায় সজোরে আঘাত করেন।
মারাত্মক আহত অবস্থায় শাহজাহানকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই দিন বিকেলেই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শাহজাহানের বোন লাকী আক্তার বাদী হয়ে শওকত ও তাঁর বোন রুবি আক্তারকে আসামি করে বাঁশখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরপরই শওকত আত্মগোপনে চলে যান এবং বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেন।
আরও
আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান জানান, অভিযুক্ত শওকত কিছুদিন আগে ছুটিতে দেশে এসে পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি আবারও ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশকে বিষয়টি দ্রুত জানানো হয়। পরে তাদের সার্বিক সহায়তায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে এবং আইনি কাজ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।












