শেরপুর জেলা পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রুস্তম আলীকে গভীর রাতে এক নারীসহ পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে শহরের নবীনগর এলাকায় পাসপোর্ট কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ওই কর্মকর্তার আবাসিক ভবন থেকে তাঁদের থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাসপোর্ট কার্যালয়ের ভেতরে সহকারী পরিচালকের বাসভবনে এক অপরিচিত নারীকে প্রবেশ করতে দেখেন তাঁরা। গভীর রাতে সেখানে তাঁদের অবস্থানের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুস্তম আলী ও ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। এ সময় ওই কক্ষের টেবিলের ওপর মদের খালি বোতল দেখতে পাওয়ায় সেখানে মদ্যপানের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে স্থানীয় লোকজন ধারণা করছেন।
আরও
তবে আটক ওই নারী নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে পুলিশকে জানিয়েছেন, রুস্তম আলী তাঁর দূরসম্পর্কের ভগ্নিপতি এবং তিনি সেখানে কেবল বেড়াতে এসেছিলেন। তবে এত রাতে একই কক্ষে অবস্থানের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। অন্যদিকে অভিযুক্ত রুস্তম আলী দাবি করেন, রাত সাড়ে ১০টায় ওই নারী ভেতরে প্রবেশের সময় হয়তো দু-একজন তা দেখেছিলেন। পরে বেশ কয়েকজন ভেতরে ঢুকে ওই নারীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং তাঁকে জিম্মি করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এ বিষয়ে সদর থানার ওসি মো. সোহেল রানা জানান, সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে গভীর রাতে লোকজনের উপস্থিতির খবর পেয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে রাত আড়াইটার দিকে তাঁদের থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ওজিলা নামের ওই নারী কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি ওই কর্মকর্তার দূরসম্পর্কের শ্যালিকা। তথ্য যাচাই ও ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে বর্তমানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











