দীর্ঘ সাত বছরের প্রবাসজীবন শেষে পরিবারের কাছে ফেরা হলো না মৌলভীবাজারের ফখরুল ইসলামের। ইতালি থেকে দেশে ফেরার পথে মাঝ-আকাশে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে বহনকারী বিমানটি জর্জিয়ায় জরুরি অবতরণ করে। সেখানে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার (১৩ জুলাই) তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ফখরুল মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর শহরের মহুবন্দ গ্রামের আবদুল অকিদের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইতালিতে দীর্ঘ সাত বছর হাড়ভাঙা পরিশ্রম শেষে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরছিলেন তিনি। যাত্রাপথে হঠাৎ করেই তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। বাধ্য হয়ে পাইলট জর্জিয়ায় বিমানটি জরুরি অবতরণ করান। বিমানবন্দর থেকে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ফখরুল ইসলামের মামা লাল মিয়া জানান, সোমবার রাতেই জর্জিয়া থেকে এই মর্মান্তিক দুঃসংবাদ পান তাঁরা। বর্তমানে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রবাসে প্রাণ হারানো এই যুবকের মরদেহ দ্রুত দেশে আনতে সরকারের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেছে পরিবার।
আরও
এদিকে ফখরুলের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছাতেই পুরো মহুবন্দ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। পরিবারের স্বপ্ন পূরণের জন্য যৌবনের অনেকটা সময় প্রবাসে কাটানো এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার এমন অকালমৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। যে মানুষটির হাসিমুখে বাড়ি ফেরার কথা ছিল, জন্মভূমিতে এখন ফিরছে তাঁর নিথর দেহ।









