হাজার হাজার কিলোমিটারের ভৌগোলিক দূরত্ব, ভাষা কিংবা সংস্কৃতির বিস্তর ফারাক—কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি ভালোবাসার কাছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন চীনা নাগরিক ওয়াং জিয়াওপাং। শুধু তা-ই নয়, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কেরানীগঞ্জের এক তরুণীকে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন তিনি। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তাঁর নতুন নাম রাখা হয়েছে শুভ ইসলাম।
চীনা যুবকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ওই তরুণীর নাম সানজিদা আক্তার। তিনি ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের হাজীনগর এলাকার প্রয়াত কবির হোসেনের মেয়ে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর বাংলাদেশে এসে গত ২৭ জুলাই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এই যুগল।
নিজেদের সম্পর্কের বিষয়ে সানজিদা আক্তার জানান, অনলাইনে পরিচয়ের পর তাঁদের মধ্যে চমৎকার একটি পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিয়ের সিদ্ধান্তে উপনীত করে। শুভ ইসলাম স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ভবিষ্যৎ দাম্পত্য জীবন নিয়ে আশাবাদী সানজিদা পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসার ভিত্তিতে একটি সুন্দর সংসার গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশে এসে এ দেশের মানুষের আন্তরিকতা ও পারিবারিক উষ্ণতায় মুগ্ধ হয়েছেন শুভ ইসলাম। স্ত্রীকে নিয়ে সুখী একটি জীবন গড়ার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন তিনিও।
আরও
ভিন্ন সংস্কৃতির বিদেশি ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে সানজিদার মা নাসীমা বেগম বলেন, মেয়ের সুখের কথা বিবেচনা করেই তাঁরা এই বিয়েতে সম্মতি দিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, পারস্পরিক সহযোগিতায় নবদম্পতির সংসার সুন্দরভাবেই এগিয়ে যাবে। সানজিদার ফুফু শাহীনুর বেগম জানান, শুরুতে কিছুটা সংশয় কাজ করলেও ছেলেটির অমায়িক আচরণ ও আন্তরিকতায় পরিবারের সবাই এখন সন্তুষ্ট।
বর্তমানে প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্ত্রী সানজিদাকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে শুভ ইসলামের। এদিকে ভিনদেশি এক জামাইয়ের আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো কেরানীগঞ্জে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। চীনা যুবককে একনজর দেখতে এবং তাঁর সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করতে প্রতিদিন কনের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য উৎসুক মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা ভিন্ন সংস্কৃতির দুই মানুষের এই মিলনকে ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখছেন।











