টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সাতটি জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ৫৯টি উপজেলায় অন্তত ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় দিন পার করছে। এই প্রলয়ংকরী বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮ জন মারা গেছেন কক্সবাজারে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে এবং আগামী কয়েক দিন আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বন্যার কারণে সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চল। ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। মাটির ঘরবাড়ি ধসে পড়া, ফসলের খেত নষ্ট হওয়া এবং বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকটে এই অঞ্চলের লাখো মানুষ অবর্ণনীয় দুর্দশায় পড়েছেন। রেললাইন ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং অনেক মানুষ প্লাস্টিকের ঝুড়ি বা কাঠের তক্তা দিয়ে ঘরের ভেতর মাচা তৈরি করে কোনোমতে বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
পার্বত্য তিন জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও রেখে যাচ্ছে ধ্বংসের স্পষ্ট চিহ্ন। এই তিন জেলার মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে বান্দরবান, যেখানে জেলা শহরের অধিকাংশ এলাকা এবং প্রধান সড়কগুলো এখনো পানির নিচে ডুবে আছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যাওয়া, সেতু ধসে পড়া এবং জুমখেত ও বীজতলা নষ্ট হওয়ার প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠছে। অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ নিজ বাসস্থানে ফিরতে শুরু করলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাদের আরও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে।










