সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ে করে স্ত্রীর স্বীকৃতি চাইতে গিয়ে স্বামীর পরিবারের হাতে এক নববধূর মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই তরুণী তাঁর বৈধ অধিকার ও স্বামীর সঙ্গে সংসার করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উল্লাপাড়া উপজেলার ভট্টকাওয়াক গ্রামের মো. শাহিন রেজার মেয়ে মোছা. সাম্মি খাতুনের সঙ্গে একই উপজেলার কাওয়াক দক্ষিণপাড়া গ্রামের রায়হান মোল্লার ছেলে আকাশ রহমানের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সাম্মি খাতুনের দাবি, গত ১৪ জুন পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে কিছুদিন একত্রে সংসারও করেন তাঁরা। কিন্তু বিষয়টি আকাশের পরিবার জানতে পারার পর তারা এই বিয়ে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকে আকাশ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

আরও
জানা যায়, গত ২৪ জুন সাম্মি খাতুন তাঁর স্বামীর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীর অধিকার দাবি করলে আকাশের মা আসমা খাতুন তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে বিষয়টি সুরাহার জন্য স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আকাশের পরিবার সাম্মিকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে সাফ অস্বীকৃতি জানায়। উল্টো সেখানে সাম্মি ও তাঁর মা-বাবাকে মারধর ও অপমান করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী। পরদিন শুক্রবার পুনরায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে ওই বাড়িতে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে আবারও মারধর করে তাড়িয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী সাম্মি খাতুন বলেন, আকাশ রহমান তাঁর বৈধ স্বামী এবং বিয়ের যাবতীয় প্রমাণ তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে। তিনি আইনগতভাবে স্ত্রীর স্বীকৃতি নিয়ে স্বামীর সংসার করতে চান। অন্যদিকে আকাশ রহমানের মা আসমা খাতুন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর ছেলেকে ভুল বুঝিয়ে বিয়ে করা হয়েছে। ওই তরুণী বিয়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা প্রমাণ দেখাতে পারেননি বিধায় তাঁরা বিষয়টি মেনে নেননি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়েরের খবর পাওয়া না গেলেও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।








