নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে স্ত্রীর পলায়ন ও অন্যকে বিয়ের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আনোয়ার হোসেন (৩৫) নামের এক কুয়েতপ্রবাসী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর দূর সম্পর্কের এক ভাগনেকে বিয়ে করার পর, দেশে ফিরে আসা ওই প্রবাসী মাত্র ১০ দিনের মাথায় আত্মহননের পথ বেছে নেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরে দুপুরে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। নিহত আনোয়ার উপজেলার নদনা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলা গ্রামের কেরামত আলী ব্যাপারীবাড়ির মফিজ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন প্রায় ৯ বছর ধরে কুয়েতে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি দুম্বা পালনের কাজ করতেন। প্রবাসে থাকাকালে তিনি তাঁর স্ত্রী আকলিমা আক্তারের (৩৪) কাছে নিয়মিত টাকা পাঠাতেন এবং সেই টাকায় জমিও কেনা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ছয় মাস আগে দুই সন্তানের জননী আকলিমা স্বামীর দূর সম্পর্কের এক ভাগনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং ওই যুবককে বিয়ে করেন। কাকতালীয়ভাবে আকলিমার নতুন স্বামীর নামও আনোয়ার হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, স্ত্রীর এমন কাণ্ডের পর গত ৯-১০ দিন আগে কুয়েত থেকে দেশে ফেরেন প্রবাসী আনোয়ার। দেশে ফিরে তিনি তাঁর দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং তাঁকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে চান। তবে একপর্যায়ে আকলিমা তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন।
আরও
নিহতের স্বজনদের দাবি, গত শনিবার আকলিমা তাঁর স্বামী আনোয়ারের কাছে তালাকের নোটিশ পাঠান। এই নোটিশ পেয়ে তিনি মানসিকভাবে চরমভাবে ভেঙে পড়েন এবং তীব্র অভিমান ও ক্ষোভ থেকে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য আকলিমাকে দায়ী করে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনা তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











