বাংলাদেশ থেকে আগামী বছরের মধ্যে রাশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি এক লাখে উন্নীত করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে মস্কোয় অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জনশক্তি বাড়ানোর এই প্রস্তাবে রুশ কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে মঙ্গলবার (৯ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে রাশিয়ার বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন। এই সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করার বিষয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবে রাশিয়া দ্রুত কাজ শুরু করতে সম্মত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, উভয় দেশ শিগগিরই এ–সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে। জনশক্তি রপ্তানির পাশাপাশি দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম বলে উভয় পক্ষ একমত প্রকাশ করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার বিশাল বাজারে তৈরি পোশাক ও ওষুধের রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন।

আরও
বাণিজ্য ও শ্রমবাজারের বাইরে প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে এআই প্রযুক্তির প্রায়োগিক দিক নিয়ে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই উদ্যোগে প্রযুক্তিগত সহায়তার অংশ হিসেবে খুব শিগগিরই রাশিয়ার একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে বলে মস্কোর পক্ষ থেকে সম্মতি জানানো হয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আমন্ত্রণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের এই বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও অংশ নেন। দ্বিপক্ষীয় ওই বৈঠকে রাজনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, বিজ্ঞান ও শিক্ষাসহ আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে সের্গেই লাভরভ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সম্মানে এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন, যেখানে অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত সাত বছরের মধ্যে এই প্রথম বাংলাদেশ থেকে এত উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিদল দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে রাশিয়া সফর করল। গুরুত্বপূর্ণ এই সফরটি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক, পারস্পরিক গভীর আস্থা এবং বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্বকে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করার একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।










