পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফেরা প্রায় ১৫০ জন হাজির লাগেজ কেটে মূল্যবান মালামাল লুটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে আসা ভুক্তভোগী এক হাজির সন্তান ও আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই অভিযোগ তুলেছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও প্রতিকার চেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বিমানের একটি ফ্লাইটে ৪১৯ জন হাজি দেশে ফেরেন। বিমানবন্দর থেকে মালামাল সংগ্রহের সময় দেখা যায়, তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন হাজির লাগেজ ধারালো কিছু দিয়ে কাটা হয়েছে এবং ভেতর থেকে মূল্যবান উপহারসামগ্রী ও মালামাল লুট করা হয়েছে।
আরও
ভুক্তভোগী হাজির সন্তান মোস্তফা কামাল পলাশ তাঁর ফেসবুক পোস্টে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, কোরবানির ঈদ পাঁচ দিন আগে শেষ হয়ে গেলেও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত চোরদের নতুন করে ঈদ শুরু হয়েছে। এই ঈদ হলো চুরির ঈদ, হাজিদের লাগেজ কাটার ঈদ। পবিত্র হজ শেষে হাজিরা নিজেদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের জন্য সামান্য যেসব উপহারসামগ্রী নিয়ে এসেছেন, সেগুলো চুরির ঈদ। তিনি জানান, তাঁর বাবার লাগেজটি কাটা হলেও আগে থেকে সতর্ক থাকায় মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যায়নি। তবে যাঁরা নাতি-নাতনি বা পরিবারের জন্য স্বর্ণ ও মূল্যবান জিনিস এনেছিলেন, তাঁদের বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। পরবর্তী হজ ফ্লাইটগুলোর লাগেজ সুরক্ষায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানান।
এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম জানান, ফেসবুকের স্ট্যাটাসটি তাঁদের নজরে এসেছে। তবে ১৫০ জনের লাগেজ কাটার দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে চার-পাঁচজন হাজি লাগেজ কাটার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করছিলেন। তাঁদের সংশ্লিষ্ট ডেস্কে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তাঁরা কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেননি।
তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না থাকলেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন এই মুখপাত্র। তিনি জানান, বিমানের নিজস্ব সিকিউরিটি বিভাগ এবং এভসেক (এভিয়েশন সিকিউরিটি) ইতিমধ্যে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনার বিষয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, চলতি বছর হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত ২১ হাজারেরও বেশি হাজি দেশে ফিরেছেন।










