Long Popup (2)
সর্বশেষ

ওমান প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা, রাতভর মায়ের লাশের পাশে বসে ছিল সন্তান

4cf2d25fccb0ad733dd4ff234f21254d7d64f84890333792ProbashircityWebPopupUpdate

ভোলার সদর উপজেলায় রাতের আঁধারে এক ওমান প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ঘাতকেরা ওই প্রবাসীর আট বছর বয়সী ছেলেকেও কুপিয়ে জখম করে এবং সে মৃত ভেবে তাকে ফেলে রেখে যায়। ভীতসন্ত্রস্ত শিশুটি সারা রাত তার মায়ের নিথর দেহের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় বিভীষিকাময় সময় পার করে। গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) গভীর রাতে সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফ সরদার বাড়িতে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম নাসিমা বেগম (৪০), তাঁর স্বামী আল আমিন দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ওমানপ্রবাসী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা আল আমিনের ঘরে ঢুকে নাসিমা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করে। মায়ের পাশে থাকা শিশু আবির বিষয়টি টের পেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। ভয়ে ও আতঙ্কে আবির রাতে ঘরের বাইরে গিয়ে প্রতিবেশীদের ডাকার সাহস পায়নি। পরে ফজরের আজানের পর ভোরের আলো ফুটলে সে রক্তাক্ত শরীর নিয়েই ছুটে গিয়ে প্রতিবেশীদের ডেকে মায়ের হত্যাকাণ্ডের কথা জানায়। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে সে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, আহত শিশু আবির এই হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রতিবেশী জামাল মেম্বারের ছেলে জিহাদকে দায়ী করেছে। আবিরের ভাষ্যমতে, জিহাদ তার মাকে হত্যা করেছে এবং সে চিনে ফেলায় তাকেও কুপিয়ে জখম করে। মা ও ছেলে দুজনেই মারা গেছে ভেবে জিহাদ সেখান থেকে চলে যায়। এদিকে শিশু আবির যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, সেই জিহাদের বাবা জামাল মেম্বার মাত্র এক দিন আগেই মারা গেছেন এবং শুক্রবারই তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বাবার দাফনের রাতেই ছেলের এমন একটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অভিযোগে হতবাক হয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার রাজিব জানান, আল আমিন প্রায় ১৫ বছর ধরে ওমানে রয়েছেন এবং তাঁর স্ত্রী নাসিমাও কিছুদিন ওমানে ছিলেন। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। এলাকায় তাঁদের কোনো শত্রু থাকার কথা তাঁর জানা নেই। তাই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিকে বেশ রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন তিনি। এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই নির্মম হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত নাসিমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। আহত শিশুর জবানবন্দি ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে মো. জিহাদ নামের ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুনProbashircityWebPopupUpdate