ইরান ও তার মিত্রদের প্রভাব কমে যাওয়ার পর ভবিষ্যতে ইসরায়েলের জন্য প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হয়ে উঠবে সুন্নি রাজনৈতিক শক্তিগুলো। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে মিসরের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ বেধে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে এবং একসময় মিসরের ক্ষমতায় আসবে মুসলিম ব্রাদারহুড। সম্প্রতি জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত জিউইশ নিউজ সিন্ডিকেট (জেএনএস) আন্তর্জাতিক নীতি শীর্ষ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেছেন প্রভাবশালী জায়নবাদী নেতা ও বিশ্লেষক আমিয়াদ কোহেন। গত সোমবার (২২ জুন) মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে তাঁর এই বক্তব্যের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
হেরুত সেন্টারের প্রধান নির্বাহী এবং ইসরায়েলের জাতীয়তাবাদী ধারার অন্যতম এই নেতা মনে করেন, শিয়া শক্তির পরিবর্তে এখন সুন্নি রাজনৈতিক আন্দোলনগুলোর দিকে ইসরায়েলকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। সম্মেলনে উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হয়ে উঠতে পারে মিসর ও তুরস্ক। এ সময় তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডকে বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন, সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এক নম্বর হুমকি এবং তারা ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এমনকি নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির বিজয়ের পেছনেও মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাব রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন, যদিও এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি তুরস্কের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাবকেও ইসরায়েলের জন্য একটি বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আমিয়াদ কোহেনের এই বক্তব্য মূলত ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলের একটি নতুন ভাবনার প্রতিফলন, যেখানে ইরানের পরিবর্তে তুরস্ক ও মিসরের মতো সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত মাসে দণ্ডপ্রাপ্ত ইসরায়েলি গুপ্তচর জোনাথন পোলার্ডও প্রায় অভিন্ন মন্তব্য করে বলেছিলেন, ধীরে ধীরে তেহরানের জায়গা নিচ্ছে আঙ্কারা। এসব আলোচনা এমন একসময়ে হচ্ছে, যখন ১৯৭৯ সালে স্বাক্ষরিত এক ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির পর থেকে ইসরায়েল ও মিসর গত কয়েক দশক ধরে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রেখে চলছে। অন্যদিকে তুরস্কের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের নানা ওঠানামা থাকলেও ফিলিস্তিন ও গাজা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে প্রায়শই তীব্র উত্তেজনা দেখা যায়। কোহেন তাঁর বক্তব্যের শেষে জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ইসরায়েলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এর জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়কেই শক্তিশালী হতে হবে, যদিও তাঁর মতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বেশ দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।







![Hgxzjop[]](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/06/hgxzjop.webp)


