চট্টগ্রামের একটি মামলায় অভিযুক্ত আসামি সাইফুল ইসলাম সানিকে নিয়মিত আদালতে হাজির দেখানো হলেও বাস্তবে তিনি হাজার মাইল দূরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। পাসপোর্ট ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত নথি বলছে, তিনি রিয়াদের এক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। অথচ আদালতের রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে, চোরাই পণ্য কেনাবেচার মামলায় তিনি একাধিক তারিখে ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা দিয়েছেন। এতে আদালতপাড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া মামলায় গোয়েন্দা পুলিশ সানির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় এবং আদালত ৪১১ ধারায় বিচার শুরু করে। নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন তিনি। তবে ভ্রমণ তথ্য প্রমাণ করছে, ওই সময় তিনি সৌদি আরবেই ছিলেন।
বাদীপক্ষের দাবি, আসলে সানির ছোট ভাই তাহসান ইসলাম সোহাম বড় ভাইয়ের ছদ্মবেশে আদালতে হাজির হচ্ছেন। সোহামের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথাও আলোচনায় এসেছে। আদালত ইতোমধ্যে সানিকে আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পাসপোর্টসহ হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ বিষয়টি উপস্থাপনের আগেই আসামিপক্ষ সময় চেয়ে আবেদন করে।
আরও
আইনজীবী ও প্রসিকিউশনের কর্মকর্তারা বলছেন, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে এটি সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ এবং আদালতের সঙ্গে প্রতারণা। ভুয়া হাজিরার কারণে শোকজ, নোটিশ কিংবা ওয়ারেন্ট জারি হতে পারে। তাদের মতে, আদালতের রেকর্ডে মিথ্যা হাজিরা ন্যায়বিচারের অন্তরায় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।
মানবাধিকার কর্মী ও শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এ ঘটনা আদালতের প্রতি জনআস্থা নষ্ট করছে। সুশাসনের জন্য দায়ীদের শনাক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। ইতোমধ্যে সাক্ষ্য গ্রহণ স্থগিত রেখে আদালত আগামী জানুয়ারির নতুন তারিখ দিয়েছে। সেদিন সানি পাসপোর্টসহ হাজির হলে ভুয়া হাজিরার রহস্য প্রকাশ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।











